বিশেষ প্রতিবেদন:
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির চোখধাঁধানো অগ্রগতির কল্যাণে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও দৃশ্যমানতায় চ্যালেঞ্জ থাকা মানুষের জীবনে এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। যে বিশ্বকে আগে শুধুমাত্র স্পর্শ ও অনুভূতির মাধ্যমে অনুভব করতে হতো, এখন এআই-চালিত স্মার্ট গ্লাস এবং ভিশন অ্যানালাইসিস অ্যাপের মাধ্যমে সেই বিশ্বই তাঁদের কাছে দৃশ্যমান হয়ে উঠছে শব্দের রূপ ধরে।
দৃষ্টিহীনদের জন্য তৈরি প্রযুক্তিগত এই ফ্রেমওয়ার্কটিকে বলা হচ্ছে 'ডিজিটাল এআই মিরর'। স্মার্ট চশমায় ব্যবহৃত ক্ষুদ্র ক্যামেরা বা স্মার্টফোনের অ্যাপস সামনের পরিবেশ, মানুষ ও বস্তুর প্রতিবিম্ব অ্যালগরিদমের সাহায্যে বিশ্লেষণ করে এবং এক মুহূর্তের মধ্যে তা অডিও বা ভয়েস নোটে রূপান্তরিত করে ব্যবহারকারীর কানে পৌঁছে দেয়।
টেক্সট ও দলিল পাঠ (OCR): কোনো বই, সংবাদপত্র, পণ্যের গায়ে থাকা লেবেল বা হাতে লেখা কাগজ চোখের সামনে ধরলেই এআই মুহূর্তের মধ্যে তা পড়ে শোনায়।
বাধা ও বস্তু শনাক্তকরণ: হাঁটার পথে কত দূরে সিঁড়ি, দরজা, চেয়ার বা কোনো পথচারী আছে—তা ক্যামেরা স্ক্যান করে রিয়েল-টাইম ভয়েস মেসেজের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়।
পরিচিত মুখ চেনার ক্ষমতা: পরিবারের সদস্য বা সহকর্মীদের চেহারা আগেই সেভ করে রাখলে, তারা সামনে এলে ডিভাইসটি নাম অডিওর মাধ্যমে জানিয়ে দেয়।
টাকা ও রঙ শনাক্তকরণ: কেনাকাটার ক্ষেত্রে কাগজের নোটের মূল্য এবং পরিধানের কাপড়ের রঙ নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করতে পারে এই প্রযুক্তি।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে বেশ কিছু এআই ডিভাইস ও ফ্রি মোবাইল অ্যাপ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে:
১. মাইক্রোসফট সিইং এআই (Seeing AI): মোবাইল ক্যামেরা ব্যবহার করে যেকোনো দৃশ্য বা বস্তুর নিখুঁত বিবরণ মুখে বলে দেওয়ার জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি বিনামূল্যে পাওয়া অ্যাপ।
২. এনভিশন গ্লাসেস (Envision Glasses) ও আরক্যাম (OrCam): চশমায় যুক্ত ক্ষুদ্র ক্যামেরা ও এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে হাত ছাড়াই ঘরের বা বাইরের পরিবেশ বোঝার দারুণ সুবিধা।