বৈশ্বিক মন্দা, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ আর্থিক খাতের নানামুখী চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বাংলাদেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংরক্ষণ এবং রাজস্ব আয় বাড়ানোর মাধ্যমে সামষ্টিক অর্থনীতিতে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনাই এখন দেশের নীতি-নির্ধারকদের মূল অগ্রাধিকার। টেকসই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারের গৃহীত নানা পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে একটি সামগ্রিক বিশ্লেষণ।
দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য সাধারণ মানুষের বড় দুশ্চিন্তার কারণ।
কঠোর মুদ্রানীতি: বাংলাদেশ ব্যাংক সুদের হার বৃদ্ধি এবং টাকার সরবরাহ কমানোর মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ‘সংকোচনমূলক’ (Contractionary) মুদ্রানীতি বজায় রাখছে।
সরবরাহ শৃঙ্খল পর্যবেক্ষণ: চাল, তেল ও ডালের মতো জরুরি খাদ্যপণ্যের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমদানি শুল্ক ছাড় ও তদারকি জোরদার করা হচ্ছে।
বৈদেশিক বাণিজ্যের ভারসাম্য ও মুদ্রা বিন্যাসকে সঠিক পথে রাখতে বৈদেশিক রিজার্ভের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি: অফিশিয়াল ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রণোদনা ও বিনিময় হার নমনীয় করায় প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সে ইতিবাচক গতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
রপ্তানি বহুমুখীকরণ: তৈরি পোশাক (RMG) খাতের পাশাপাশি চামড়াজাত পণ্য, হিমায়িত খাদ্য ও ওষুধ রপ্তানি বাড়িয়ে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ অক্ষুণ্ণ রাখার চেষ্টা চলছে।
অপ্রয়োজনীয় আমদানি নিয়ন্ত্রণ: বিলাসবহুল পণ্যের আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ করে দেশের রিজার্ভের ওপর থেকে চাপ কমানো হচ্ছে।