কাজী নজরুলের সেই বিখ্যাত পঙ্ক্তি—“মহা-বিদ্রোহী রণ-ক্লান্ত/ আমি সেই দিন হব শান্ত...”—ঠিক যেন প্রতিফলিত হচ্ছিল শ্রাবণের সেই ঐতিহাসিক পড়ন্ত বিকেলে। আকাশ থেকে নামা বৃষ্টিও দমাতে পারেনি ছাত্র-জনতার ভেতরের জাগ্রত ক্ষোভকে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বানে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সেদিন পরিণত হয়েছিল শিকল ভাঙার এক মুক্তিসংগ্রামে।
┌──────────────────────────────────────────┐
│ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার (বিদ্রোহের কেন্দ্র) │
└────────────────────┬─────────────────────┘
│
┌──────────────────────────────┼──────────────────────────────┐
▼ ▼ ▼
[চাঁনখারপুল মোড়] [দোয়েল চত্বর এলাকা] [জগন্নাথ হল ও শেখ রাসেল টাওয়ার]
কাজী নজরুল যেমন গেয়েছিলেন—“আমি পথ-পার্শ্বের নির্ঝর-ঝরঝর, আমি শ্যামলিমার অলক্তক, আমি ব্যাকুল বল্লরী”—ঠিক তেমনি বেলা আড়াইটার পর থেকেই চারপাশ থেকে বাঁধভাঙা জোয়ারের মতো আসতে থাকে সাধারণ মানুষ। সময়ের সাথে সাথে আন্দোলনকারীদের সংখ্যা বাড়তে থাকে জ্যামিতিক হারে:২০২৪ সালের ৩ আগস্ট ছিল বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চেতনার পুনর্জাগরণের দিন। হাজারো শহীদের আত্মত্যাগ ও ছাত্র-জনতার সাহসিকতার প্রতীক এই দিনটি দেখিয়ে দিয়েছে যে জনগণের ঐক্যবদ্ধ শক্তির সামনে কোনো স্বৈরাচারী শাসক টিকতে পারে না। এই দিনটিই পরবর্তী দুই দিনের মধ্যে (৫ আগস্ট) স্বৈরাচারী সরকারের পতন নিশ্চিত করার প্রধান ভিত্তি স্থাপন করেছিল। বাংলাদেশজুড়ে ন্যায়বিচার, বাকস্বাধীনতা ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার যে স্বপ্ন দেখা হয়েছিল, ৩ আগস্ট ছিল তার অন্যতম উজ্জ্বল স্ফুরণ।