বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্র এখন এশিয়া-প্যাসিফিক বা প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল। সাম্প্রতিক সময়ে এই অঞ্চলে বাণিজ্য সহজীকরণ, সরবরাহ শৃঙ্খল (Supply Chain) শক্তিশালীকরণ এবং শুল্ক বাধা কমানোর লক্ষ্যে যেসব নতুন বহুপাক্ষিক অর্থনৈতিক চুক্তি গড়ে উঠছে, তা বৈশ্বিক বাণিজ্যের গতিপথ বদলে দিচ্ছে। বাহ্যিকভাবে মনে হতে পারে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের এই অর্থনৈতিক জোটগুলো দূরবর্তী, কিন্তু গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়—উন্নয়নশীল ও রফতানিমুখী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য এতে রয়েছে অপার সম্ভাবনা।
বাংলাদেশ ২০২৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বল্পোন্নত দেশের (LDC) তালিকা থেকে উত্তরণ ঘটাচ্ছে। এলডিসি উত্তরণের পর বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশ যেসব অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধা (GSP) পেত, তা ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাবে। এই চ্যালেঞ্জিং সময়ে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নতুন বহুপাক্ষিক চুক্তিগুলোর সাথে কৌশলগত সমন্বয় বাংলাদেশের অর্থনীতিকে নতুন গতি দিতে পারে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় বাণিজ্য চুক্তির অর্থনৈতিক বলয় থেকে বাংলাদেশ কীভাবে সরাসরি উপকৃত হতে পারে, তা নিচে তুলে ধরা হলো:
রফতানি বাজার সম্প্রসারণ ও বৈচিত্র্যকরণ: বাংলাদেশের রফতানি খাত মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উন্নত ও উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর (যেমন—জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ভিয়েতনামী ও কানাডা) সাথে বাণিজ্য সহজ হলে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য, আইটি সেবা এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্যের নতুন বিশাল বাজার তৈরি হবে।
আপনার মতামত লিখুন :