হতাশা মোকাবেলার উপায়

হতাশা মোকাবেলার উপায়

SHARE
Depression-Removation

হতাশা মানুষের জীবনের এমন একটা ধাপ যা মানুষকে তার দ্বারা যেটা করা সম্ভব সেটা করতে দেয় না। অর্থাৎ মানসিকভাবে তাকে দুর্বল করে তোলে। কর্মব্যস্ত আধুনিক এই শহুরে জীবনে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার সময় খুবই কম। আর এজন্য মানসিক চাপে ভোগার সম্ভাবনাও বাড়ছে দিন দিন। দিন শেষে মনে খেলে যায় হতাশা। তবে এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় রয়েছে বেশ কিছু সহজ উপায়। আজ আমরা জানবো হতাশা মোকাবেলার উপায় সম্পর্কে-

গবেষণায় দেখা গেছে, কোনো বিষয় নিয়ে আমরা যতটা না মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছি তার থেকেও বেশি চিন্তিত থাকি কীভাবে মানসিক চাপ দূর করা যায়- সেটা নিয়ে। উক্ত গবেষণার ফলাফলে আরও উল্লেখ করা হয়, যারা অতিরিক্ত মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যান তাদের হৃদ-স্পন্দনের পরিমাণ তুলনামূলক কম থাকে। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। আর তাই মানসিক চাপ কমানোর জন্য চেষ্টা করতে হবে। আর সেজন্য রয়েছে বেশ কিছু সহজ কিন্তু কার্যকর পন্থা।

মেডিটেশন বা ধ্যান: মানসিক চাপ কমাতে অত্যন্ত কার্যকর ও পুরাতন উপায় মেডিটেশন বা ধ্যান। এটি মনের নেতিবাচক চিন্তা দূর করতে সাহায্য করে এবং মনোযোগ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। সব থেকে ভালো দিক হল যেকোনো স্থানে ধ্যান করা যায়। পছন্দ মতো জায়গায় চোখ বন্ধ করে প্রিয় কোনো স্মৃতি মনে করা বা স্থান কল্পনা করার মাধ্যমেই মেডিটেশন করা যায়।

পর্যাপ্ত ঘুম: ঘুম শরীরের বিশ্রামের পাশাপাশি মানসিকভাবেও শান্তি দেয়। ঘুমের সময় মস্তিষ্ক সব অগোছালো চিন্তাকে গুছিয়ে নিতে সাহায্য করে। তাই হতাশা কমাতে ভালো মতো ঘুমানো দরকার।

গান শুনুন: নেতিবাচক চিন্তা ভুলে থাকতে মনকে অন্য দিকে ব্যস্ত রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে গান শোনা অত্যন্ত উপযোগী উপায়। সংগীত মন শান্ত করে। হতাশা ও মানসিক চাপ সৃষ্টিকারী হরমোনের মাত্রা কমিয়ে আনে। বিশেষ ধরনের সংগীত রয়েছে যা ধ্যানের সময় শুনলে মন শান্ত থাকে।

সামাজিকতা: একাকিত্ব- মানসিক চাপ ও হতাশা বাড়িয়ে তোলে। তাই পরিবার ও বন্ধুর সঙ্গে সময় কাটানোর চেষ্টা করতে হবে। বন্ধু বা আপন কারও সঙ্গে সমস্যা নিয়ে আলাপ করলে সমস্যা নিয়ে দুঃশ্চিন্তা অনেকটাই কমে আসে।

গবেষণায় দেখা গেছে যারা একা থেকে অভ্যস্ত তাদের মধ্যে হতাশা বৃদ্ধি পেতে থাকে, এটি অনেকটা ধূমপানের মতোই রূপ নেয়। তাই বন্ধু ও সামাজিকভাবে মেলামেশা বাড়াতে হবে।

খাওয়া দাওয়া করা: খালি পেটে হতাশা দূর করা সম্ভব নয়। তাই ভালো ও পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। এক্ষেত্রে তাজাশাক, ওটমিল, দই, বাদাম, ডার্ক চকলেট, বেরিজাতীয় ফল বেশ উপযোগী।