সুন্দর চোখ পেতে করণীয়

সুন্দর চোখ পেতে করণীয়

SHARE
Beautiful eye

মুখের সৌন্দর্যের সিংহভাগই নির্ভর করে চোখের সৌন্দর্যের ওপর। চোখকে সাজাতে আমরা কত কিছুই না করি। চোখের পাতায় কাজলের টান, পল্লবে মাশকারার প্রলেপ ছাপিয়ে চোখের ডার্ক সার্কেল আর চোখের চারপাশের কোঁচকানো ত্বক যদি স্পষ্ট হয়ে ওঠে তবে তা দেখতে ভালো লাগে না। চোখের চারপাশের ত্বক সাধারণত খুবই স্পর্শকাতর। তাই চোখের মতো স্পর্শকাতর অঙ্গের জন্য দরকার বিশেষ যত্নের। আসুন জেনে নিই সুন্দর চোখ পেতে করণীয় সম্পর্কে-

# চোখের সৌন্দর্যের জন্য সারাদিন প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। দিনে অন্তত এক থেকে দেড় লিটার পানি অবশ্যই পান করুন। পানি ত্বকের ইলাস্টিসিটি বজায় রাখতে সাহায্য করবে।

# সারাদিন আমাদের কর্মসূত্রে অনেক ছোটাছুটি করতে হয়। ফলে দিনের শেষে স্ট্রেস ও ক্লান্তি আমাদের নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়ায়। এর থেকে শরীর এবং অবশ্যই ত্বককে রক্ষা করার জন্য প্রতিদিন অন্তত সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম একান্তই প্রয়োজন। খুব বেশি ক্লান্তি এবং কম ঘুম থেকে চোখের নিচে কালি পড়ার সমস্যা দেখা দেয়।

# প্রতিদিন রাতে শুতে যাওয়ার আগে যত ক্লান্তই থাকুন না কেন চোখের মেকআপ তুলতে কখনই ভুলবেন না। কারণ মেকআপে নানা রকম কেমিক্যাল থাকে, যা বেশিক্ষণ ত্বকের ওপরে থাকলে ত্বকে নানা রকম সমস্যা যেমন অ্যালার্জি হতে পারে।

# কখনো চোখের চারপাশের ত্বক ঘষে ঘষে মুছবেন না। চোখ ধোয়ার পর নরম কাপড় বা তোয়ালে দিয়ে হালকা করে চেপে চেপে পানি মুছে নিন। খুব জোরে ঘষলে চোখের চারপাশের ত্বকে ইরিটেশন তৈরি হয় এবং ত্বক কুঁচকে যায়।

# চড়া রোদ এবং অতিবেগুনি রশ্মি চোখের চারপাশের ত্বকের পক্ষে খুবই ক্ষতিকারক। আমরা অনেকেই সানগ্লাস প্রয়োজনীয় মনে করি না। অথচ ইউভি গার্ড দেয়া সানগ্লাস চোখের চারপাশের ত্বককে রক্ষা করে। তাই রোদে বের হওয়ার সময় সানগ্লাস অবশ্যই পরা উচিত।

# বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির ভালো আই মেকআপ রিমুভার পাওয়া যায়। এই রিমুভার কেনার আগে দেখে নেবেন যে এটি অয়েল ফ্রি কি না। যেসব প্রডাক্টে তেল রয়েছে সেসব প্রডাক্ট ব্যবহারে চোখের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যারা নিয়মিত কন্ট্যাক্ট লেন্স পরেন, তারা অয়েল বেসড প্রডাক্ট একেবারেই এড়িয়ে চলবেন। ইনফেকশন এড়ানোর জন্য একটা কথা সব সময় খেয়াল রাখবেন। রিমুভার কন্টেইনারের ভেতরে আঙুল দেবেন না। সব সময় তুলা ব্যবহার করুন।

# অনেকের স্বভাব আছে কপাল বা চোখ কুঁচকে তাকানোর। এইস্বভাব ত্যাগ করা উচিত। চোখ কুঁচকে তাকালে চোখের পাশের সেনসেটিভ ত্বকে স্ট্রেস পড়ে। এর ফলে দেখা দেয় প্যাচ, রিঙ্কলস বা ফাইন লাইনস্, যা চোখের সৌন্দর্যকে নষ্ট করে দেয়।

# অতিরিক্ত মাত্রায় ধূমপান এবং ড্রিঙ্ক করলে একদিকে যেমন শরীরে ক্ষতি হয়, ঠিক তেমনি ত্বকও ডিহাইড্রেটেড হয়ে যায়। ফলে চোখের চারপাশের ত্বক কুঁচকে যায় এবং বয়সের ছাপ পড়ে।

# চোখের ডার্ক সার্কেল কমাতে টমেটো পেস্ট করে তার মধ্যে এক চিমটি হলুদ গুঁড়ো ও সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে চোখের চারপাশে দশ মিনিট লাগিয়ে রেখে ধুয়ে ফেলুন।

# শসা স্লাইস করে চোখের ওপরে পনেরো মিনিট লাগিয়ে রাখুন। চোখের চারপাশের ত্বকে সতেজতা ফিরে আসবে।