সুচিত্রা সেনের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

সুচিত্রা সেনের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

SHARE
The greatest actress suchitra sen

বাঙালি নারীহৃদয়ের মিথ যার রূপ-অভিনয়ের জাদুতে মুগ্ধ হয়ে আছে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম। তিনি হলেন সুচিত্রা সেন। বাংলা ছবির মহানায়িকা সেই সুচিত্রা সেনের আজ তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী।

দেখতে দেখতে তিন বছর পেরিয়ে গেল! ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান কিংবদন্তি এই অভিনেত্রী। তার অমর আত্মার প্রতি আমরা জানাই গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।

বাংলাদেশের মেয়ে সুচিত্রা। পাবনা জেলাতে ১৯২৯ সালের ৬ এপ্রিল এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন রমা দাশগুপ্ত নামের এক সুন্দর মুখশ্রীর মেয়ে। বাবা করুণাময় দাশগুপ্ত ছিলেন স্থানীয় স্কুলের প্রধান শিক্ষক। ১৯৪৭ সালে বর্ধিষ্ণু শিল্পপতি পরিবারের সন্তান দিবানাথ সেনকে বিয়ে করে কলকাতায় চলে যান পাবনার সেই রমা।

বিয়ের পর রূপালি পর্দায় নায়িকার ভূমিকায় প্রথম আত্মপ্রকাশ করেন ১৯৫২ সালে ‘শেষ কথায়’ ছবিতে। তখন পাবনার রমার নাম বদলে হয় সুচিত্রা। আর তারপর কেবলই কিংবদন্তির পথে এগিয়ে চলা। সে সময় তার হাত ধরেই বদলে যায় বাংলা চলচ্চিত্রের নায়িকার সংজ্ঞা।

‘সাত নম্বর কয়েদী’ ছবিতে অভিনয় করার পর সুচিত্রা সেন অভিনয় করেন পিনাকী মুখার্জি পরিচালিত ‘সংকেত’ ছবিতে। তবে তখনও তিনি ‘সুচিত্রা সেন’ নাম ধারন করেননি। সে নাম আসে এর পরের ছবি অর্থাৎ ১৯৫২ সালে নীরেন লাহিড়ীর ‘কাজরী’ ছবির মাধ্যমে।

সুচিত্রা সবচেয়ে বেশি আলোচিত হন উত্তমকুমারের জুটি হিসেবে। উত্তম-সুচিত্রা শব্দটি ছিলো তখনকার চলচ্চিত্রের আশির্বাদ। কখনো প্রেম যুগল, কখন বা দাম্পত্যজীবনের গল্পে সে সময়ে তারা হয়ে উঠেছিলেন অনবদ্য। আলাদা সংসার থাকলেও এই দুজনের প্রেম নিয়ে অনেক মুখরোচক কথাই ছড়ানো রয়েছে টালিগঞ্জের ইতিহাসে।

সুচিত্রা সেন অভিনীত শেষ ছবি ‘প্রণয় পাশা’ মুক্তি পায় ১৯৭৮ সালে। আর ওই বছরেই তিনি সুদীর্ঘ ২৫ বছর অভিনয়ের পর চিরতরে অবসরগ্রহণ করেন চলচ্চিত্র অঙ্গন থেকে। এরপর তিনি লোকচক্ষু থেকে আত্মগোপন করে রামকৃষ্ণ মিশনের সেবায় ব্রতী হন।

তার হঠাৎ এই নীরবতা প্রসঙ্গে বলা হয়, উত্তমকুমারের মৃত্যুর পর প্রিয় মানুষটিকে হারানোর অভিমানে চলচ্চিত্র ত্যাগ করেন তিনি। জানা যায়, তার নায়ক উত্তম কুমার ১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই মারা গেলে তিনি সেই রাতে এসেছিলেন একখানি মালা হাতে নিয়ে। মহানায়কের দেহের ওপর মালা রেখে সুচিত্রা সেন ফিরে এলেন কলকাতার বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডের বাড়িতে। আর তারপর মিডিয়ার সঙ্গে আর কথা বললেন না তিনি। কাটাতে লাগলেন একাকী নিঃসঙ্গ জীবন।

এমনকি ২০০৫ সালে দাদা সাহেব ফালকে পুরস্কার নিতেও যাননি তিনি। ২০১২ সালে বঙ্গ বিভূষণ পুরস্কার পান সুচিত্রা। সে সময় তার হয়ে এই পুরস্কার গ্রহণ করেন তার কন্যা বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের একটি আসনের সাংসদ ও  টালিগঞ্জের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মুনমুন সেন।

সুচিত্রা সেনের কন্যা মুনমুন সেনও একজন গুণী অভিনেত্রী। আর এখন সুচিত্রার দুই উত্তরসরী নাতনী রিয়া ও রাইমা সেনও নানীর মতোই অভিনয়কেই বেছে নিয়েছেন ক্যারিয়ার হিসেবে।