শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য সম্পর্কে এখনই সচেতন হোন

শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য সম্পর্কে এখনই সচেতন হোন

SHARE
awareness about child contipation

শিশুর মলত্যাগে কষ্ট, ব্যাথা এবং কোষ্ঠকাঠিন্য নিয়ে সমস্যায় পড়েন নি এমন বাবা-মা খুব কমই আছেন। এ সময় তারা সন্তানের সুস্থতা নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় পড়েন। এতে শিশুর খুব অসুবিধা হয়। অনেক সময় এমনও দেখা গেছে যে, কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে শিশুর মলদ্বার ছিঁড়ে গেছে বা মলদ্বার পায়ুপথে এসে পড়েছে। এ অবস্থাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় বলিস্টোল প্রোলাপস। এছাড়া প্রস্রাবের রাস্তায়ও সক্রমন ঘটতে পারে। সাধারণত ৩ থেকে ৫ বছরের মধ্যে শিশুদের এই সমস্যা প্রবলভাবে দেখা দেয়। অনেক অভিভাবকই অনেক সময় শিশুর এই সমস্যা বুঝতে পারেন না। ফলে পরে তাদেরকে মারাত্মকভাবে পস্তাতে হয়। তাই অভিভাবকদের শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্যের লক্ষন ও প্রতিকার সম্পর্কে এখনই সচেতন হওয়া প্রয়োজন। আর এটা নিয়েই আমাদের আজকের পর্বঃ

> কোষ্ঠকাঠিন্য কি?: শিশু যদি সপ্তাহে তিনবার বা এর চেয়ে কম মলত্যাগ করে এবং মল খুব শক্ত হয় তবে তাকে শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য বলে।

> কোষ্ঠকাঠিন্যের লক্ষণঃ

মাঝে মধ্যে পেটে খুব ব্যাথা হয়।

পেট শক্ত হয়ে থাকে বা ফুলে থাকে।

পেটে হাত দিলে শক্ত মল অনুভূত হয়।

মলদ্বার আর্দ্র থাকবে এবং স্প্রিংটার খোলা থাকবে।

শিশুর ক্ষুধামন্দা দেখা দেয়া।

শিশুর খেতে না চাওয়া।

বমি করা বা বমি বমি ভাব হওয়া।

ওজনহীনতা অনুভব করা।

এদের দুই একটা লক্ষন দেখা দিলেই যে শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য হয়েছে এটা নিশ্চিত করে বলা যায় না। তারপরও শিশুকালের এ সময়টায় বাবা মাকে যথেষ্ট সচেতন থাকতে হবে যাতে কোনোভাবেই কোনো প্রকার দুর্ঘটনা ঘটে না যায়। উপরিক্ত কারণ ছাড়াও আরও অনেক কারণেই শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। যেমনঃ

খাদ্যাভ্যাস জনিত কারণঃ কম আঁশযুক্ত খাবার খেলে শিশু এ রোগে ভুগতে পারে। তাছাড়া গরুর দুধ খেলেও এ সমস্যা হয়।

শারীরিক ত্রুটিঃ অ্যানোরেকটাল স্টেনোসিস বা মলদ্বার জন্মগতভাবে বন্ধ থাকলে, জন্মগতভাবে পেটের সামনের মাংস না থাকলে, রেনাল টিউবুলার অ্যাসিডোসিস হলে, মানসিক প্রতিবন্ধী হলে শিশুদের মধ্যে কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়ার জোর সম্ভাবনা থাকে।

শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য রোধে করণীয়ঃ

বেশি পরিমাণ পানি পানঃ পানি খাবার হজমে সাহায্য করে, মলাশয় পরিষ্কার হয়। তাই শিশুকে বেশি পরিমাণে পানি পান করাতে হবে। পানি খেতে না চাইলে শরবত, তাজা ফলের জুস বা স্যুপ খাওয়ানো যেতে পারে।

আঁশ জাতীয় খাবার খাওয়াঃ শিশুর খাদ্যতালিকায় যথেষ্ট পরিমাণ আঁশ জাতীয় খাবার রাখা উচিত। এসব খাবার হজম না হওয়ায় মল হিসেবে জমা হয়। তাছাড়া এগুলো পরিপাকতন্ত্রের বেশ কিছু জলীয় অংশকে শোষণ করে এবং এগুলো মলের সাথে বের হয়ে আসে। ফলে মল নরম হয় যা কোষ্ঠকাঠিন্যকে প্রতিরোধ করে। শাক-কচুশাক, মিষ্টি আলুর শাক, কলমিশাক, পুদিনা পাতা, পুঁইশাক, মুলাশাক, ডাঁটাশাক, লাউয়ের ও মিষ্টি কুমড়া ইত্যাদিতে প্রচুর আঁশ রয়েছে।

মলত্যাগের অভ্যাস গড়ে তোলাঃ শিশুকে নিয়মিত মল ত্যাগের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। তাকে বকাঝকা না করে বিভিন্ন চকলেট, খেলনার লোভ দেখিয়ে প্রতিদিন মল ত্যাগের অভ্যাস করাতে হবে।

ফার্স্ট ফুড ও মাংস জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলাঃ অনেক শিশুরই ফার্স্ট ফুড ও মিটের প্রতি আলাদা আকর্ষণ থাকে। তাই কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পেতে এগুলো যত সম্ভব কম খাওয়ার অভ্যাস গড়তে হবে।

দুধের উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনাঃ অনেক শিশুই দুধ খাওয়ার ফলে আর কিছু খেতে চায় না বিশেষ করে আঁশ জাতীয় খাবার। তাই এক বছরের বেশী বয়সের শিশুকে দৈনিক আধা লিটার (১৬ আউন্স) থেকে পৌনে এক লিটার (২৪ আউন্স) এর বেশি দুধ খেতে দেয়া ঠিক না।

ওষুধের অপব্যবহার না করাঃ শিশুর যেকোনো অসুস্থতায় নিজে নিজে সিদ্ধান্ত না নিয়ে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খাওয়াতে হবে এবং বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে যে ওষুধের কারণে শিশুর যাতে কোনো প্রকার কোষ্ঠকাঠিন্য না হয়।

শিশুর পেট নরম করার ব্যবস্থা করুনঃ শিশুদের লেক্সেটিভ বা পায়খানা নরম করার ঔষধ দিয়ে হলেও কোষ্ঠকাঠিন্যে দূর করার চেষ্টা করুন। এসব খুব সহজেই কাজ করে এবং নিরাপদও। তবে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খাওয়াবেন এবং পুরো ডোজ শেষ করবেন। কোষ্ঠকাঠিন্য ভালো হওয়ার সাথে সাথেই হঠাৎ করে ওষুধ খাওানো বন্ধ না করে আস্তে আস্তে বন্ধ করুন।

সর্বোপরি, শিশুরা আমাদের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের ব্যতিরেখে আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা চিন্তাও করতে পারি না। তাই আমরা, আপনারাসহ সকলের উচিত তাদেরকে সকল রোগ থেকে মুক্তির পথ দেখিয়ে একটা যথাযোগ্য সুন্দর আগামির পৃথিবী উপহার দেয়া।