রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখবে এই ১০টি খাবার

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখবে এই ১০টি খাবার

SHARE
Blood-pressure

বাংলায় একটা প্রবাদ আছে, ‘স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল’। সুতরাং সুখী ও রোগমুক্ত জীবনযাপনের জন্য নিরোগ স্বাস্থ্যের কোনো তুলনা নেই। আর এই আধুনিক শহুরে জীবন পদ্ধতি আমাদের অনেক ভালো ভালো রোগবালাই উপহার দিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো উচ্চ রক্তচাপ। এটা আজকাল প্রায় সবারই কম বেশি দেখা যায়। দিন দিন এটি যে আমাদের দেশে মারাত্মক রূপ ধারণ করবে না এর নিশ্চয়তা কে ই বা দিতে পারে। বর্তমানে প্রায় সব ডাক্তাররাই এই রোগের ক্ষেত্রে একটা কমন উপদেশ দিয়ে থাকেন আর তা হচ্ছে লবণ কম খাওয়া। কিন্ত এটা ছাড়াও আরও অনেক নিয়ন্ত্রক উপাদান আছে যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে মহৌষোধ হিসেবে কাজ করে। এমন ১০ টি খাদ্য হচ্ছে-

১। আঙ্গুরঃ

পটাশিয়াম আর ফসফরাসের অনেক বড় একটি উৎস আঙুর। পটাশিয়াম একটি প্রাকৃতিক মূত্রবর্ধক উপাদান যা আপনার কিডনিকে বেশি বেশি সোডিয়াম ত্যাগে উৎসাহিত করবে এবং রক্তের শিরা-উপশিরাগুলোকে শিথিলকরণেও ভূমিকা পালন করে এটি। আর এই দুটি উপাদানই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

২। পেঁয়াজঃ

পেঁয়াজে আছে মাংসপেশি শিথিলকারী উপাদান অ্যাডেনোসিন যা উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। প্রতিদিন কাঁচা পেঁয়াজ খেলে বা দিনে দুবার এক টেবিল চামচ পেঁয়াজের রস মধুর সঙ্গে মিশিয়ে দুই সপ্তাহ খেলেই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। তাছাড়া পেঁয়াজ খেলে হৃদপিণ্ডের হৃদপেশির সঞ্চালনও নিয়মিত থাকে এবং হৃদপিণ্ড ভালো রাখে।

৩। কলাঃ

পটাশিয়ামের আরেকটি বড় উৎস হলো কলা বিশেষ করে পাকা কলা। এতে রয়েছে ভিটামিন বি৬, ভিটামিন সি এবং ম্যাগনেশিয়াম। সুতরাং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে প্রতিদিনই কলা খাওয়াটা উপকারী। জার্নাল অফ দ্য আমেরিকান কলেজ অফ কার্ডিওলজিতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিনই ১,৬০০ গ্রাম পটাশিয়াম গ্রহণ করেন তাদের স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি ২১% কমে যায়। তাছাড়া খিঁচুনি জাতীয় রোগ থাকলেও পটাশিয়ামের কল্যাণে এটা অনেকটা নিয়ন্ত্রনে থাকে।

৪। রসুনঃ

ধমনী এবং রক্তের শিরা-উপশিরায় জমে থাকা কোলেস্টেরল গলাতে রসুন কার্যকরী ভূমিকা রাখে। প্রতিদিন রসুনের দুটি কোয়া চূর্ণ করে বা চিবিয়ে খেলে রক্তপ্রবাহ ঠিক রাখে এবং উচ্চ রক্তচাপ কমে যায়। আপনি যদি কাঁচা রসুন খেতে না পারেন তাহলে রস বের করে পানিতে মিশিয়ে পান করুন। তাহলেও একই ফল পাওয়া যাবে। প্রতিদিন দুবার করে রসুন খান।

৫। নারকেলের পানিঃ

পটাশিয়ামের অন্য আর একটি উৎস হলো ডাব বা নারকেলের পানি। এছাড়া রয়েছে সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন সি এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান যা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে ভূমিকা রাখে।

৬। তরমুজঃ

তরমুজের রসে আছে আরজিনিন নামের একটি অ্যামাইনো এসিড যা রক্তচাপ কমাতে বেশ সহায়ক। এটি রক্তের জমাটবদ্ধতা কমায় এবং স্ট্রোকসহ হৃদপিণ্ডের নানা রোগ প্রতিরোধ করে। তরমুজের বীজও উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে বেশ কার্যকর। ভারতীয় কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, তরমুজের বীজে রয়েছে কিউকারবোট্রিন নামের একটি গ্লুকোসাইড যা রক্তের প্রসারণ ঘটায় এবং ফলতঃ রক্তচাপ কমে।

৭। ধনিয়া পাতাঃ

ধনিয়া পাতাতে রয়েছে জীবাণুনাশক এবং মানসিক অবসাদ, প্রদাহ ও উদ্বেগপ্রতিরোধী উপাদানসমূহ। ধনিয়া পাতা রক্তে সুগার ও কোলেস্টেরলের মাত্রা এবং রক্তচাপ কমায় প্রাকৃতিকভাবেই। এতে আরও রয়েছে মূত্রবর্ধক উপাদান। ফলে রক্তচাপ নিজ থেকেই কমে আসে।

৮। পুদিনা পাতাঃ

পুদিনা পাতাতে রয়েছে জিরোফাইনিন নামক উপাদান যা ধমনির প্লাক দূর করে। ধমনিতে জমা হওয়া প্লাক উচ্চরক্তচাপের একটি বড় কারণ। প্লাক দূর হলে রক্ত চলাচলের গতি বাড়ে যার ফলে রক্তচাপও কমে আসে।

৯। লেবুঃ

লেবু ভিটামিন ‘সি’ এর বড় একটি উৎস। ভিটামিন সি কৈশিক নালী শক্তিশালীকরণে সহায়ক। যার ফলে উচ্চরক্তচাপের ঝুঁকি কমে।

১০। সেলারি শাকঃ

এতে রয়েছে এনবিপি নামের একটি নির্যাস। যা ধমনির দেয়ালগুলোকে শিথিল করে তুলে এবং রক্তপ্রবাহ বাড়ায়। ফলে রক্তচাপও কমে যায়। এতে আরও রয়েছে আঁশ, ম্যাগনেশিয়াম এবং পটাশিয়াম যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক এজেন্ট হিসেবে কাজ করে।