যাত্রাবাড়ীতে সাত বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা

যাত্রাবাড়ীতে সাত বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা

SHARE
Seven year old child killed after rape at Jatrabari

ছবিটির মতো করে আর কখনোই মমতাময়ী মায়ের মুখে চুমো খাবে না শিশু জারিয়া। সাত বছরের এই শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি পুলিশের কাছে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। আরো জানিয়েছেন জারিয়ার বাবার সঙ্গে ঝগড়ার জের ধরে সে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটিয়েছে।

রোববার ভোরে (১ অক্টোবর) যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইলের দরবার শরিফ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শিশু ধর্ষণের ঘটনায় জারিয়ার পিতা জাকির হোসেন বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় ২ অক্টোবর একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নাম্বার-০৮।

সরেজমিনে মাতুয়াইলের দরবার শরীফ এলাকায় জারিয়াদের বাসায় গিয়ে দেখা যায় শোকের মাতম।জারিয়ার বাবা মো: জাকির হোসেন চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: জারিয়া রোববার ভোর ৬টার দিকে বাথরুমে যাওয়ার পর আর ঘরে ফিরে না।পরে আমার পরিবারের লোকজন সহ জারিয়াকে খুঁজতে থাকি, কিন্তু কোথাও খুঁজে পাই না।

বিকেল সোয়া চারটার দিকে একটি অপরিচিত মোবাইল নাম্বার থেকে আমার মোবাইলে ফোন আসে, মোবাইলে ফোন করা ব্যক্তিটি জানায় আমার মেয়ে কোথায় আছে সে তা জানে, সেজন্য প্রথমে সে ১০০ টাকা ফ্লেক্সিলোডের দাবি জানায়, ১০০ টাকা পরিশোধের পর সে ফোনে আমাকে শনির আখড়া দেখা করে ৫ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলে।
জাকির আরো জানায়, আমি শনির আখড়ার কাছাকাছি পৌছে গেলে বাসার থেকে আমার ছোট ভাই জানায় জারিয়ার লাশ পাওয়া গেছে।

জারিয়াদের বাসার পাশের রুমেই থাকত ঘাতক রফিকুল ইসলাম। রোববার ভোর আনুমানিক ৬:১৫ তে জারিয়া বাথরুম থেকে বের হয়ে রুমে ফিরতে নিলে রফিকুল তার রুমে ডেকে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

জারিয়ার চাচা আরিফ চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: জারিয়ার মৃতদেহ দুই পা পাটের রশি দিয়া বাধা অবস্থায় ছিল, দুই হাত পেছনের দিকে দিয়ে গামছা দিয়ে বাধা, মুখ থেকে শ্বাসনালী পর্যন্ত কাপড় গুজে দেওয়া ছিল। লাশটা লাল একটি কম্বল দিয়ে পেচিয়ে ঘরের সানসেটের উপর রেখে দেওয়া হয়।

সকাল থেকে সব রুম খুঁজলেও ঘাতকের রুমটাই খোঁজেনি কেউ, ঘাতকের ভাই শহীদুল নিজেও জারিয়াকে খুঁজতে সহায়তা করেছিল। তবে কিভাবে এই ঘরে জারিয়াকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেল তা কেউই জানে না।

জারিয়ার বাবা জাকির হোসেন বলেন: আমি তখন মোবাইলে ফোনদাতা টাকা দিতে শনির আখড়ার কাছাকাছি ছিলাম, বাসা থেকে ফোন দিয়ে আমায় নিয়ে আসে। মেয়েকে মৃত অবস্থায় পেয়েছি, কে তালা ভেঙ্গে এ রুম থেকে উদ্ধার করেছে তা জানি না।

দরবার শরীফ গলির ভূ্ইয়া টিনসেড বাড়িতে প্রায় ১৩ বছর ধরেই বাস করছিলেন জাকির হোসেন। বাসার পাশেই তার মুদির দোকান। তিন কন্যা সন্তানের মধ্যে বড় মেয়ে কলেজে ও মেঝ মেয়ে ক্লাস সেভেনে পড়ত। আর জারিয়া তো স্কুলে যাওয়াই শুরু করেনি। ওই টিনসেড বাসাটিতেই প্রায় ৮বছর ধরে বসবাস করত ঘাতক রফিকুল ও তার পরিবার।

Seven year old child killed after rape at Jatrabari
ধর্ষক রফিকুল ইসলাম, ছবিটি যাত্রাবাড়ী থানার সৌজন্যে

ঘাতক রফিকুলের সঙ্গে কোনো ঝগড়া ছিল কিনা জানতে চাইলে জাকির হোসেন চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: আমি মুদির দোকান চালাই, অনেকেই বাকি করে, দুই একজনের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা কাটাকাটি বা ঝগড়া হয়।ওর সাথেও হয়েছিল।

এলাকাবাসীরা চ্যানেল আই অনলাইনকে জানায় ঘাতক রফিকুল ও তার ভাই শফিকুল দুজনেই মাদকাসক্ত ছিল। ওদের বাবা-মা দুধ বিক্রি করত।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের ডেমরা জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এসি) ইফতেখায়রুল ইসলাম চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: আসামি রফিকুল মঙ্গলবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

আসামি জানিয়েছে জারিয়ার বাবা জাকিরের সঙ্গে ঝগড়ার জের ধরে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সে ঘটিয়েছে।

যাত্র্রাবাড়ী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) তোফায়েল আহমেদ চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, আসামি রফিকুল ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। [সুত্রঃ চ্যানেল আই]

LEAVE A REPLY