ভয়াবহ রোগ মেনিনজাইটিস

ভয়াবহ রোগ মেনিনজাইটিস

SHARE
Severe disease Meningitis

মেনিনজাইটিস একটি প্রাণঘাতী রোগ যার কারণে আক্রান্ত ব্যক্তি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মৃত্যুবরণ করতে পারে। মানবদেহের মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের মধ্যে এক ধরনের তরল থাকে, যা স্পাইনাল কর্ড ও মস্তিষ্ক আঘাত থেকে রক্ষা করে। এ ছাড়া আরও কিছু কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত এটি। এ তরলে ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের সংক্রমণের ফলে মেনিনজাইটিস হতে পারে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটে। এ রোগ মস্তিষ্কের ক্ষতি ছাড়াও শ্রবণক্ষমতা এবং দেখার ক্ষমতা পুরোপুরি নষ্ট করে দিতে পারে। তাই দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা প্রয়োজন। আর প্রতিরোধ ব্যবস্থাই হতে পারে জীবন রক্ষার সর্বোত্তম পন্থা’

মেনিনজাইটিসের লক্ষণ

অনেক ক্ষেত্রে লক্ষণ প্রকাশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মেনিনজাইটিসের রোগী মারা যায়। তীব্র মাথা ব্যথার সঙ্গে থাকে স্মৃতি বিভ্রম, বমি-বমি ভাব, আলোর দিকে তাকাতে না পারা, অস্বস্তি, শরীরে বিশেষ দাগ। মূর্ছা যাওয়া, ঘুম পাওয়া, শরীরের ভারসাম্য হারানো এবং গলার মাংস শক্ত হয়ে যাওয়াও মেনিনজাইটিসের লক্ষণ।

কারণ ও প্রকারভেদঃ অধিকাংশ ক্ষেত্রে মেনিনজাইটিসের কারণ হল বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ফাঙ্গাশ, প্রোটোজোয়া প্রভৃতি। বিভিন্ন ধরনের ওষুধের প্রতিক্রিয়ায় বা ক্যান্সারের কারণেও মেনিনজাইটিস হতে পারে।

রোগটির ভয়াবহতা তুলে ধরে অধ্যাপক মনজুর হোসেন আরো জানান, মেনেন্জাইটিস রোগে প্রতি বছর প্রায় ১.৭ মিলিয়ন শিশু আক্রান্ত হয়। সচেতনতা না থাকায় বাংলদেশে এখনও এ রোগে আক্রান্তের সঠিক হিসাব নেই। তবে যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল তারা খুব দ্রুত এই রোগে আক্রান্ত হয়। প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে আগাম টিকা দেয়ার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন তিনি। অবহেলা করলে আক্রান্ত ব্যক্তি বিকলাঙ্গও হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক বার্তা দেন এই চিকিৎসক।

প্রতিরোধ

মেনিনজাইটিস ছোঁয়াচে রোগ। আক্রান্তের কাশি, শ্বাস-প্রশ্বাস থেকে এ রোগ ছড়াতে পারে। আক্রান্তের সঙ্গে চুম্বন বিনিময় করলেও এ রোগ ছড়াতে পারে। তবে রোগীর সংস্পর্শে দীর্ঘ সময় থাকলেই মেনিনজাইটিসের জীবাণু ছড়াতে পারে। তাই মেনিনজাইটিসের রোগী থেকে যতটা সাবধান হওয়া যায়, ততই সংক্রমণের আশঙ্কা কম থাকে। স্ট্রেপটোকক্কাস নিউমোনি, স্ট্রেপটোকক্কাস মেনিনজাইটিস, নিউমোকক্কাল মেনিনজাইটিস নামক জীবাণুর মাধ্যমে মেনিনজাইটিস হতে পারে। তবে এ রোগের টিকা আছে। শিশু এবং ৬৫ বছর বয়সীরা এ রোগের টিকা গ্রহণ করতে পারে। বর্তমানে সরকারিভাবেও শিশুদের হিবের (ঐওই) টিকা দেওয়া হচ্ছে। তাই মেনিনজাইটিসের প্রকোপ আগের তুলনায় কম।