বিশ্বজুড়ে আতঙ্কের নাম ব্লু হোয়েল

বিশ্বজুড়ে আতঙ্কের নাম ব্লু হোয়েল

SHARE
Panic over world online suicide game Blue Whale

বর্তমান প্রজন্ম মেতে আছে তাদের স্মার্টফোন আর ভিডিও গেমে। সাধারণ ভিডিও গেমের বদলে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে উঠেছে অনলাইন গেম। অবাক করার মতো বিষয় হলেও এটাই সত্যি, গেম খেলতে খেলতে একসময় আত্মহত্যা করতেও হৃদয় কাঁপছে না তাদের। এমনই একটি গেমের নাম ব্লু হোয়েল। সারাবিশ্বে এখন নতুন আতঙ্কের নাম এই ব্লু হোয়েল বা নিল তিমি গেমস।

বলা হচ্ছে, এটি এমন একটি গেম যেখানে ঢোকা যায়, কিন্তু বের হওয়া কঠিন। আর বের হতে না পারা মানা আত্মহনন দেওয়া। এখন আপনার প্রশ্ন আসতেই পারে, কি এমন গেম যে শেষ পর্যন্ত নিজের জীবন দিতে হবে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইতিমধ্যে বাংলাদেশে ৬১ জন ব্লু হোয়েলের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছে। ভারতে এই সংখ্যা ১৩০। এর মধ্যে পশ্চিবঙ্গেই মারা গেছে অন্তত ২০ জন। এর আগে সোশ্যাল মিডিয়া নির্ভর এই গেমের বলি হয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অসংখ্য মেধাবী তরুণ-তরুণী। গত দু’মাস ধরে ভারতজুড়ে চলছে ব্লু হোয়েল আতঙ্ক। ৫০ ধাপের এই খেলায় শুরুর টাস্কগুলি অবশ্য তেমন ভয়ংকর নয়৷ বরং বেশ মজারই৷ আর সেই কারণেই এই গেমের প্রতি সহজেই আকৃষ্ট হচ্ছে কিশোর-কিশোরীরা৷ আর গেমে প্রবেশ করে তারা বিবেকহীন হয়ে পড়ে। ৩১ ধাপে গিয়ে তাকে নিজের ওপর আঘাতের বিভিন্ন প্রক্রিয়া শুরু হয়। এটা মাদকাসক্তের চেয়ে ভয়ঙ্কর। ভয়ঙ্কর এই গেমের সফটওয়্যার লিঙ্ক ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ বা ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে। বাংলাদেশে সর্বশেষ ব্লু হোয়েল গেমের শিকার হয়েছে রাজধানী ঢাকার সেন্ট্রাল রোডের এক কিশোরী। বৃহস্পতিবার সকালে ওই কিশোরীর লাশ উদ্ধার করা হয় তার পড়ার কক্ষ থেকে।

গোপন গ্রুপের মধ্যে অপারেট করা হয় এই গেম। সে ক্ষেত্রে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপের মতো জনপ্রিয় সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মকে কাজে লাগায় তারা। যে ভাবে আইস বাকেট চ্যালেঞ্জ কিংবা হার্লেম শেক সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে ছড়িয়ে পড়েছিল, একই প্রক্রিয়ায় ছড়িয়েছে এই গেমও।

২০১৬-তে রাশিয়ায় ব্লু হোয়েল গেমের কিউরেটর সন্দেহে ফিলিপ বুদেকিন নামে ২২ বছর বয়সী এক তরুণকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জেরায় ফিলিপ স্বীকার করে জানায়, এই চ্যালেঞ্জের যারা শিকার তারা এ সমাজে বেঁচে থাকার যোগ্য নয়। তাদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়ে নিজেকে ‘সমাজ সংস্কারক’ বলে দাবি করে ফিলিপ।

LEAVE A REPLY