বিমানে চড়তে জানুন এইসব নিয়ম-কানুন

বিমানে চড়তে জানুন এইসব নিয়ম-কানুন

SHARE
Rules for air traval

আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে সুন্দর, সুশৃঙ্খল এবং আরও আভিজাত্যপূর্ণ করে তুলতে বর্তমানে বিমানে চড়ার বিকল্প নেই। মানুষের প্রত্যহ জীবনযাপনের ধারা দিন দিন উন্নত থেকে উন্নততর হচ্ছে, সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মানুষের সৌখিন ও বিলাসিতার মান। খাদ্য, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা প্রায় সব ক্ষেত্রেই বর্তমানে এর ছাপ স্পষ্ট লক্ষণীয়। একইভাবে সমতালে এগিয়ে যাচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থাও।  আজ মানুষ স্থল ও জলপথ ছেড়ে আকাশ পথে যাত্রা করছে। যা মানুষের জীবনযাপনের মানকে আরও এক ধাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিমানে মানুষ আজ মুহূর্তের মধ্যেই হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিচ্ছে। প্রতিদিনই এর যাত্রীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। কিন্ত আমাদের গতানুগতিক ভ্রমণের মতো বিমান ভ্রমণ নয়। এতে রয়েছে চড়ার কিছু নিয়ম কানুন, যা না জানলে আপনার জীবন হয়ে উঠতে পারে দুর্বিষহ। সাথে সাথে আপনার আনন্দ ভ্রমণটিও মাটি হয়ে যেতে পারে। আজ তাই আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি এমন সম্পর্কিত কিছু টিপস নিয়ে যা আপনার বিমান জার্নিকে করে তুলবে মসৃণ ও আরও রোমাঞ্চকরঃ  

# বোর্ডিং পাসঃ বিমানে চড়তে হলে যে জিনিসটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা হচ্ছে বোর্ডিং পাস। বিমান বন্দর প্রবেশ করেই এটি নিয়ে নিন এবং সযত্নে ব্যবহার করুন। আপনার সমস্ত জার্নি জুড়ে এটি বিভিন্ন কাজে লাগবে।

# বিমানে উঠার আগে ওয়াশরুম ব্যবহারঃ বিমানে উঠার আগে ওয়াশরুম সম্পর্কিত যাবতীয় কাজ সেরে ফেলুন যাতে বিমানে উঠার পর আপনাকে আলাদা বিড়ম্বনা পোহাতে না হয়।

# সিট বেল্ট বাঁধাঃ বিমানে উঠার পরই আপনার প্রধান কাজ সিটে বসে সিট বেল্ট বাঁধা। যদি কোনো ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হন তাহলে বিমানবালাদের সাহায্য নিতে পারেন।

# অক্সিজেন মাস্কঃ সিটে বসার পর আপনার অক্সিজেন মাস্কটি কোথায় আছে দেখে নিন। না পেলে বিমানবালাদের সাহায্য নিন।

# ফোন ব্যবহারঃ বিমানে উঠার পর ফোন বা রেডিও জাতীয়ও সমস্ত ধরনের ওয়্যারলেস ডিভাইস ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। ফোন এরোপ্লেন মুডে রাখুন।

# বিমানে শৌচাগার ব্যবহারঃ বিমানের শৌচাগারে বেশি সময় না কাটানোই ভালো। প্রতিবার ব্যবহারের পর পরিষ্কার রাখুন এবং অবৈধ যৌনাচার থাকে বিরত থাকুন।

#  তীব্র গন্ধযুক্ত কিছু নিয়ে বিমানে না ওঠাঃ তীব্র গন্ধযুক্ত কোনো খাবার বা আতর ও পারফিউম নিয়ে বিমানে উঠা যাবে না। এতে করে আপনার পাশের যাত্রীর সমস্যা হতে পারে।

# কিভাবে ঘুমাবেন তা ঠিক করে রাখুনঃ বিমানে ঘুমাতে চাইলে বিমানবালাদের কাছ থেকে একটা নেক পিলো চাইতে পারেন। এতে ঘুমানোর সময় আপনার মাথা অন্যের ঘাড়ে চলে যাবে না। যারা মাঝ আসনটিতে বসেন তারা কখনও ট্রে টেবিলে ঘুমাবেন না। এতে পাশের যাত্রীর চলাফেরায় সমস্যা হতে পারে।

# মালপত্র ঠিক জায়গায় রাখুনঃ বিমানের যেখানটায় মালপত্র রাখা হয় তাকে ‘বিন’ বলে। বিমানে প্রত্যেকটা ব্যাগের জন্যই আলাদা করে মূল্য দিতে হয়। তাই পাশের জনের যাতে মালামাল রাখতে অসুবিধা না হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন।

# হেলান দেয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুনঃ বিমানে আপনি যদি হেলান দিতে চান তাহলে সিটটি আধশোয়া করার ক্ষেত্রে পিছনের যাত্রীর সুবিধা অসুবিধার দিকে কড়া খেয়াল রাখবেন।

# মদ্যপান থেকে বিরত থাকুনঃ বিমানে লং জার্নির ক্ষেত্রে অনেকেই শরীর গরম রাখার জন্য মদ্য পান করেন। এ ক্ষেত্রে সচেতন থাকুন। অতিরিক্ত মদ্যপানের ফলে যাতে নিয়ন্ত্রণ না হারায় সেদিকে খেয়াল রাখুন।

# বিমানবালাদের সাথে ভালো ব্যবহার করুনঃ কেবিন ক্রু বা বিমানবালারাই আপনার জার্নিকে ঝঞ্ঝাটমুক্ত রাখতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে। তাই তাদের দেয়া নির্দেশনাগুলো মেনে চলুন এবং তাদের সাথে সর্বদা ভালো ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।