বিএসএমএমইউতে বস্তাভর্তি পচা মুরগি সরবরাহ

বিএসএমএমইউতে বস্তাভর্তি পচা মুরগি সরবরাহ

SHARE
Baked poultry supplies in BSMMU

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) টিএসসি ক্যান্টিনে মরা ও পচা মুরগি সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। এমন অভিযোগে কেন্টিনটি বন্ধ করে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী চিকিৎসকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে তিনটার দিকে বিএসএমএমইউ টিএসসি ক্যান্টিনে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, ক্লাস শেষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) টিএসসি ক্যান্টিনে দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন ১০/১২ জন শিক্ষার্থী চিকিৎসক। এমন সময় একজন বেয়ারা একটি বস্তা নিয়ে ক্যান্টিনের রান্নাঘরে প্রবেশ করে। সে যখন ক্যান্টিনের ভেতর দিয়ে রান্না ঘরের দিকে যাচ্ছিল তখনই পুরো এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। দুর্গন্ধের মাত্রা এতটাই বেশি যে, যারা খাবার খাচ্ছিলেন তাদের সবাই তৎক্ষণাৎ নাক চেপে ধরেন। কারও কারও বমির উদ্রেকও হয়।

এমন সময় ক্যান্টিনে অবস্থানরত ওই সব শিক্ষার্থী চিকিৎসক ক্যান্টিন সুপারভাইজার জাহিদের কাছে জানতে চান ওই বস্তায় কি ছিল। প্রথমে তিনি প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান। তবে কয়েকজন চিকিৎসক কেন্টিনের ভেতরে প্রবেশ করে দেখতে পান, কর্মচারীরা বস্তা থেকে মুরগি নামিয়ে ফ্রিজে রাখছেন। সেখান থেকেই এ তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে।

এ ঘটনায় অভিযোগ করলে, তৎক্ষণাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত অতিরিক্ত রেজিস্টার অধ্যাপক ডা. আসাদুল ইসলাম, ডেপুটি প্রক্টর শেখ আবদুল্লাহ আল মামুন, টিএসসি ক্যান্টিন কমিটির সেক্রেটারি অধ্যাপক ডা. আতিকুর রহমানসহ আরও কয়েকজন মিলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা পচা মুরগির মাংস ফেলে দিতে বলেন এবং ক্যান্টিন বন্ধ করে দেন।

এ সময় ক্যান্টিন সুপারভাইজার জাহিদ বলেন, বাসার ফ্রিজ নষ্ট হওয়ায় এগুলো এখানে ফ্রিজে রাখতে আনা হয়েছে। এগুলো ক্যান্টিনের নয়। কিন্তু বাসায় দুশ’ পিস মুরগির মাংস দিয়ে কি করবেন জানতে চাইলে আর কোনো কথা বলতে পারেননি জাহিদ। শিক্ষার্থী চিকিৎসকরা অভিযোগ করেন, ক্যান্টিনটি কোনো টেন্ডার ছাড়াই জাহিদ পরিচালনা করছেন। প্রশাসনের এ ধরনের উদাসীনতার কারণে তারা পচা মুরগি ক্যান্টিনে রাখার সাহস পেয়েছে।

আগামীকাল (শনিবার) অভিযোগ তদন্ত করে কেন্টিন পরিচালনার জন্য নতুন কাউকে নির্বাচন এবং তদন্তে পচা মুরগির মাংস মজুদের অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান বিএসএমএমইউ’র অতিরিক্ত রেজিস্টার অধ্যাপক ডা. আসাদুল ইসলাম।

LEAVE A REPLY