বাঙালিয়ানার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারক নবান্ন উৎসব

বাঙালিয়ানার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারক নবান্ন উৎসব

SHARE
The tradition of 'Bangaliana' and 'Nabanna festival'

কার্তিকের শেষ, অগ্রহায়ণের শুরু। বাঙালি মেতে উঠে নবান্ন উৎসবে। নতুন চালের বাহারি সব পিঠা আর নতুন ধানের উৎসবই নবান্ন। বাঙালির শত বছরের ঐতিহ্য নবান্নকে ঘিরে প্রতি বছরের মতো এবারো নানা আয়োজনে উদযাপন হচ্ছে এই সার্বজনীন উৎসব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের বকুলতলায় আজ বুধবার নবান্ন উৎসবের শুরু হয় বাঁশির সুরে।

সকাল ৭টা ১ মিনিটে প্রথমে মোহাম্মদ নুরুজ্জামানের বেহালা এবং পরে গাজী আবদুল হাকিমের বাঁশির সুরে উৎসবের শুরু হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান উৎসবের উদ্বোধন করেন। ‘নবান্ন কথন’ পর্বে তাঁর সঙ্গে অংশ নেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, জাতীয় নবান্নোৎসব উদ্‌যাপন পর্ষদের সভাপতি লায়লা হাসান, পর্ষদের আহ্বায়ক শাহরিয়ার সালাম, উৎসবের পৃষ্ঠপোষক ল্যাব এইড ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এ এম শামীম।

নবান্ন উৎসবে এসে শৈশবের স্মৃতি রোমন্থন করে উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘এই নবান্ন উৎসব একটি উদার, সর্বজনীন ও অসাম্প্রদায়িক উৎসব। গ্রামীণ সম্প্রদায়ের মানুষের এই উৎসব গণমানুষের উৎসব, খেটে খাওয়া মানুষের উৎসব।’ গণমুখী, মানবতাবাদী মানুষ হতে গেলে, একটি উদার-নৈতিক সমাজ গড়তে গেলে গণমানুষের উৎসব নবান্নে শামিল হতেই হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গোলাম কুদ্দুছ আক্ষেপ করেন, ‘হাজার বছরের চিরায়ত এই উৎসব নগরায়ণের প্রভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে। নাগরিক তরুণেরা আমাদের এই সর্বজনীন উৎসবের সঙ্গে পরিচিত নয়। গ্রামীণ পিঠাপুলি তো তারা অনেকেই চেনে না। তরুণদের শিকড়ে ফেরাতে হলে আমাদের এই গ্রামীণ উপাদানগুলো নগরে আরও বেশি করে তুলে ধরতে হবে।’

উৎসবের সাংস্কৃতিক পর্বে ছিল সমবেত নৃত্য, একক সঙ্গীত ও আবৃত্তি পরিবেশনা। নৃত্য পরিবেশন করে নটরাজ, নৃত্যজন, নৃত্যম, কাঁদা মাটি ও স্পন্দন। গান পরিবেশন করে বহ্নিশিখা, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী।

একক গান পর্বে ছিলেন ফরিদা পারভীন, শাহীন সামাদ, সুমা রায় শামা রহমান। আবৃত্তি পরিবেশন করেন নায়লা তারান্নুম, শিমুল মুস্তাফা। সবশেষে গারো সম্প্রদায়ের নবান্ন উৎসব ‘ওয়ানগালা’র ঐতিহ্য পরিবেশন করেন নৃত্য সংগঠন আচিকের শিল্পীরা।

পরে চারুকলা অনুষদ থেকে বিভিন্ন লোকজ অনুষঙ্গ নিয়ে এক শোভাযাত্রা বের করে নবান্নোৎসব উদ্‌যাপন পর্ষদ। শোভাযাত্রাটি টিএসসি মোড় ঘুরে আবার চারুকলায় এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রা শেষে চারুকলার বকুলতলায় চিত্রশিল্পীদের অংশগ্রহণের শুরু হয় নবান্নের আর্ট ক্যাম্প। এতে অংশ নেন দেশের নবীন প্রবীণ শিল্পীরা। জলরং আর অ্যাক্রিলিকের ক্যানভাসে উঠে আসে গ্রামবাংলার লোকজ ঐতিহ্যের গল্প।

বিকেলে চারুকলার বকুলতলার মঞ্চে ঢাক-ঢোলের মাধ্যমে শুরু হয় উৎসবের দ্বিতীয় পর্ব। আয়োজকেরা জানান, বিকেলের পর্বে থাকছে চারুকলার বকুলতলায় মানিকগঞ্জের চান মিয়া ও তাঁর দলের লাঠিখেলা, নড়াইলের পটগান, নেত্রকোনার দিলু বয়াতি ও তাঁর দলের ‘মহুয়ার পালা’ ছাড়াও নবীন-প্রবীণ কণ্ঠশিল্পীদের একক গান। বিকেল চারটায় উৎসবের অন্য পর্বে রবীন্দ্রসরোবর মুক্তমঞ্চে থাকবে নবান্ন উৎসবের আয়োজন।