বাংলাদেশে রোবট রেস্টুরেন্ট

বাংলাদেশে রোবট রেস্টুরেন্ট

SHARE
Robot restaurants in Bangladesh

বাংলাদেশের প্রথম রোবট রেস্টুরেন্টের যাত্রা শুরু হয়েছে। এই রেস্টুরেন্টে কোনো মানুষ নয়, গ্রাহকদের খাবার সরবরাহ করবে রোবট ওয়েটার। রাজধানীর আসাদগেটের কাছে ফ্যামিলি ওয়ার্ল্ড টাওয়ারের দ্বিতীয় তলার এই রেস্টুরেন্টে খাবার পরিবেশন করছে দু’টি রোবট।

এ যেন অবিশ্বাস্য! তাই রোবট দেখতে ‘রোবট রেস্টুরেন্ট’ উদ্বোধনের পরের দিনই ছিল মানুষের উপচেপড়া ভিড়। আর তাদের মধ্যে শিশুদের সংখ্যাই ছিল বেশি। টেলিভিশনে দেখা রোবটের সঙ্গে মিলে যাওয়া রোবট সামনে আসতেই তাদের চোখে-মুখে এক বিস্ময় আর আনন্দ ফুটে ওঠে। ঘুরে ঘুরে রোবট এর চলাফেরা, পথের সামনে বাঁধা পেলে সরে যাওয়ার আহবান তাদের আকৃষ্ট করে। শিশুদের এ উচ্ছাস ছড়িয়ে পড়ে বড়দের মাঝেও। তাই এই মুহূর্তটুকু ধরে রাখতে রোবটের সঙ্গে সেলফি তোর্লা‌ও বিরাম নেই রেস্টুরেন্টে আগতদের।

গত ১৫ই নভেম্বর থেকে চালু হয় রেস্টুরেন্টটি। এটি বাংলাদেশের প্রথম ‘রোবট রেস্টুরেন্ট’ এটি। বাংলাদেশ ও চীন যৌথভাবে পরিচালনা করা রেস্টুরেন্টটির মূল আলোচ্য বিষয় বস্তু হচ্ছে দুটি রোবট। চীনে তৈরি এই রোবট দুটির একটি নারী ও অন্যটি পুরুষের আদলে গড়া। যদিও তাদের দুটোর নামই এক, ‘ইয়োইদং’। যার মানে, চলমান সুখ বা মুভিং হ্যাপিনেস।

সাদা-নিল রঙের রোবট দুটো ঘুরছে রেস্টুরেন্ট জুড়ে। কাস্টমারদের সঙ্গে কথা বলছে তারা। আবার কাস্টমাররা রোবটের পেছনে থাকা মনিটরের স্ক্রিনে ভেসে ওঠা বাটন টিপে দিচ্ছেন খাবারের অর্ডার। শক্তিশালী ওয়াই-ফাইয়ের মাধ্যমে সে অর্ডার স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে যাচ্ছে রান্নাঘরে থাকা শেফের কাছে। ঝটপট তৈরি হচ্ছে খাবার। দ্রুত সেই খাবার নিয়ে ওই রোবটই হাজির হচ্ছে নির্দিষ্ট টেবিলে। উন্নত দেশগুলোর এ যান্ত্রিক রোবটের কাছ থেকে ‘মানবিক’ সেবা এখন ঢাকাবাসীও উপভোগ করছেন।

সরজমিন রেস্টুরেন্টিতে গেলে দেখা যায়, সেখানে বড়দের সঙ্গে শিশুদের সংখ্যাও কম ছিল না। উচ্চবিত্ত থেকে মধ্যবিত্ত সকলেই আসছে এই রোবটের সেবা উপভোগ করতে। এই রেস্টুরেন্টে আসা ক্রেতাদের কথা মাথায় রেখে আসন ব্যবস্থাতেও রয়েছে কিছু ভিন্নতা।

১ দশমিক ৬ মিটার উচ্চতার রোবট দুটি চীনা প্রকৌশলী ম্যাক্স সোয়াজ ও স্টিভেন তৈরি করেছেন। তবে, বর্তমানে রোবট দুটি ক্রেতাদের কাছ থেকে কোনো অর্ডার নেবে না। কেবল রান্নাঘর থেকে তৈরি করা খাবার নির্দিষ্ট টেবিলে পৌঁছে দেবে। প্রতিটি ৩০ কিলোগ্রাম ওজনের রোবট চলাচল করবে নির্দিষ্ট লাইন (ট্র্যাক) ধরে। সামনে বাধা পড়লে তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই থেমে যাবে। ইংরেজিতে অনুরোধ করবে পথ ছেড়ে দেয়ার জন্য। একনাগাড়ে এক একটি রোবট ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে সক্ষম। প্রতিটি রোবট বানাতে খরচ হয়েছে প্রায় আট লাখ টাকা। চীনা সংস্থা এইচ জেড এক্স ইলেকট্রনিক টেকনোলজি কোম্পানির অধীনে তৈরি হয়েছে রোবট দুইটি।

রেস্টুরেন্টটির পরিচালক রাহিন রাইয়ান নবী বলেন, আমরা শিশু-কিশোরদের বিনোদনের বিষয়টি মাথায় রেখেই এই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছি। তবে, সব বয়সী মানুষের জন্য এই রোবট একটি রোমাঞ্চকর পরিবেশ তৈরি করবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে রোবটের মাধ্যমে খাবার পরিবেশন করা একটা বিশাল মাইলফলক। আমরা দেখেছি, অনেক সময় দেখা যায় ওয়েটাররা কয়েক ঘণ্টা কাজ করার পর ক্লান্ত হয়ে পড়েন। সেই ক্লান্ত অবস্থায়ই তারা কাস্টমারদের খাবার সরবরাহ করতে বাধ্য হন। কিন্তু রোবট কখনোই ক্লান্ত হবে না। তাই যখন রোবট খাবার সরবরাহ করবে তখন এটি কাস্টমারকে আরও ভালো সেবা দিতে পারবে। ধীরে ধীরে অন্যান্য ক্ষেত্রেও রোবটের ব্যবহার বাড়বে বলে জানান তিনি।