ফুলকপির বহুমুখী গুণ

ফুলকপির বহুমুখী গুণ

SHARE
cauliflower & it's health benifit

সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর সবজিগুলোর একটি হল ফুলকপি। এতে রয়েছে ৮৫% পানি এবং খুব অল্প পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট ও প্রোটিন। এছাড়াও এতে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন, মিনারেল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অন্য ফাইটোকেমিক্যাল। এতে ক্যালোরির পরিমাণ থাকে খুবই কম। বহুমুখী গুণ সম্পন্ন এই সবজিটি কাঁচা, সেদ্ধ বা রান্না করেও খাওয়া যায়। আসুন জেনে নিই ফুলকপির চমৎকার কিছু উপকারিতার কথা

১। ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ

ফুলকপিতে রয়েছে ভিটামিন সি, বিটাক্যারোটিন, কায়েম্ফেরোল, কোয়ারসেটিন, রুটিন, সিনামিক এসিড সহ আরো অনেক উপাদান। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলো ফ্রি র‍্যাডিকেলের ক্ষতির হাত থেকে শরীরকে সুরক্ষা দেয়। এগুলো বয়স বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে ধীর গতির করে এবং টিস্যু ও অঙ্গের ক্ষতি হওয়া প্রতিহত করে।

২। হৃদ-স্বাস্থ্যের উন্নতি

ফুলকপিতে রয়েছে সালফারের যৌগ সালফোরাফেন যা ব্লাড প্রেশারের উন্নতিতে সাহায্য করে। গবেষণা মতে সালফোরাফেন ডিএনএ এর মিথাইলেশনের সাথে সম্পর্কিত যা কোষের স্বাভাবিক কাজের জন্য এবং জিনের সঠিক প্রকাশের জন্য অত্যাবশ্যকীয় বিশেষ করে ধমনীর ভেতরের প্রাচীরের জন্য। সালফোরাফেন ক্যান্সার সৃষ্টিকারী কোষ ধ্বংস করতে পারে এবং টিউমারের বৃদ্ধিকে বাঁধাগ্রস্থ করে । এছাড়াও ফুলকপির সাথে হলুদ যোগ করে গ্রহণ করলে তা প্রোস্টেট ক্যান্সার নিরাময়ে ও প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

৩। হজমের উন্নতিতে

যেহেতু ফুলকপি ফাইবারের গুরুত্বপূর্ণ উৎস সেহেতু এটি হজমের উন্নতিতে সাহায্য করে। ফুলকপি পাকস্থলীর প্রাচীরের সুরক্ষায় সাহায্য করে। ফুলকপির সালফোরাফেন পাকস্থলীর হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিকে এবং পাকস্থলীর প্রাচীরে এর আবদ্ধ হওয়াকে প্রতিহত করে।

৪।  মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে

ফুলকপিত আরেকটি উপকারী যৌগ হল কোলাইন । কোলাইন একটি বি ভিটামিন। এটি মস্তিষ্কের উন্নয়নে সাহায্য করে। প্রেগনেন্সির সময়ে ফুলকপি গ্রহণ করলে ভ্রূণের মস্তিষ্কের গঠনে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, জ্ঞানীয় কাজের, শিক্ষার এবং স্মৃতির উন্নয়নে সাহায্য করে কোলাইন।

৫। প্রদাহ কমায়

ফুলকপিতে ইন্ডোল ৩ কার্বিনোল বা I3C থাকে যা একটি অ্যান্টিইনফ্লামেটরি উপাদান। এটি শক্তিশালী ইনফ্লামেটরি রিঅ্যাকশন প্রতিরোধ করে।

৬। শরীরকে বিষমুক্ত হতে সাহায্য করে

ফুলকপির অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান সাহায্য করে শরীর পরিষ্কার হতে। এছাড়াও এতে রয়েছে গ্লুকোসাইনোলেটস যা এনজাইমকে সক্রিয় করে এবং ডিটক্স হতে সাহায্য করে।