ফাগুনের প্রথম দিন আজ

ফাগুনের প্রথম দিন আজ

SHARE
Today is the first day of Falgun

ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক, পঞ্জিকা অনুসারে আজ ফাগুন মাসের প্রথম দিন। ঋতুটা বসন্ত। নগরের সর্বত্র না হলেও কোথাও না কোথাও পাওয়া যাবে ঋতুরাজের আঁচ। শহরের পথে এক চক্কর ঘুড়লেই উত্তর মিলবে। সকাল সকাল চারুকলার বকুল তলায় গিয়েছেন! বাসন্তি দুনিয়া চোখেও পড়বে। ভোরবেলায় রাস্তায় বের হয়ে গায়ে মাখুন সুমিষ্ট বাতাস।

বাংলাদেশ বা বাঙালি সমাজে ঋতুরাজ বসন্ত আসে নানা রঙ ছড়িয়ে। প্রকৃতি খুলে দেয় তার দক্ষিণ দুয়ার। বসন্তের আগমনে কোকিল গান গায়। ভ্রমর খেলা করে। গাছে গাছে পলাশ আর শিমুলের মেলা। প্রকৃতির এই রূপে দেওয়ানা হয়ে কবিরা রচনা করেছেন অনেক চরণ। ‘আজি এ বসন্ত দিনে বাসন্তী রঙ ছুঁয়েছে মনে; মনে পড়ে তোমাকে ক্ষণে ক্ষণে চুপি চুপি নিঃশব্দে সঙ্গোপনে’- এ রকম অনেক চরণ রচিত হয়েছে বসন্তকে নিয়ে।

বসন্তকে সামনে রেখে গ্রাম বাংলায় নানা বাঙালি আয়োজনের সমারোহ থাকে। বাসন্তী রঙের শাড়ি, হলুদ রঙের পাঞ্জাবি আর রঙ-বেরঙেয়ের ফুলের সাজসজ্জা নানা মাত্রিকতায় বর্ণিল করে তোলে। শীতের সঙ্গে তুলনা করে চলে বসন্তকালের পিঠা উৎসবও। তবে বসন্ত উৎসব আজ গ্রামীণ আয়োজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। শহুরে মানুষের কাছেও বসন্তের আবেদন ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে। বিশেষ করে শহরের তরুণ-তরুণীরা বসন্ত বরণে দিনভর ব্যস্ত থাকে। ফুলে ফুলে ভরে যাবে তরুণীর চুলের খোপা। শহরের বিভিন্ন জায়গায় বসবে খাবারের মেলা।

Today is the first day of Falgun

গণমানুষের কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ভাষায় ‘ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক/ আজ বসন্ত…’। বনের মতো মনেও অদ্ভুত এক শিহরণ জাগানিয়া দিন এখন। রূপ লাবণ্যে জেগে উঠেছে প্রকৃতি, রঙিন চারপাশ। বৃক্ষের নবীন পাতায় আলোর নাচন! গোলাপ, জবা, পারুল, পলাশ, পারিজাতের হাসি। সেই প্রাচীন প্রাকৃত পেঙ্গলের দিকে তাকালে আমরা দেখবো বসন্তরাজের করতলে ভালোবাসার নৈবেদ্য তুলে দিতে কেমন ব্যস্ত কবিরা। বসন্তের বন্দনা করে একটি পংক্তিও লেখেননি, এমন বাঙালি কবি খুঁজে পাওয়া যাবে না।

LEAVE A REPLY