প্রতিবাদী নুসরাত ফারিহা

প্রতিবাদী নুসরাত ফারিহা

SHARE
প্রতিবাদী নুসরাত ফারিহা

১ জুলাই অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়া তখন মুম্বাইয়ে। মুম্বাইয়ে থাকলেও তার নিজের শহর ঢাকা রক্তাক্ত হয়েছে ইসলামী জঙ্গিদের নৃশংস হামলায়। সেই রাতের পর থেকে তার বাসার সবাই বিপর্যস্ত। কারণ সেদিনকার হামলায় ফারিয়াকে হারাতে হয়েছে তার এক প্রিয়জন ইশরাত আকন্দকে। ওপার বাংলার একটি জনপ্রিয় দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ঈদে দেশে ফিরবো, মেহেদি লাগাব। কিন্তু সেই রংয়ের লেগে থাকবে আমার স্বজন হারানোর কষ্টের কথা। আমার পরিবার এক অভিভাবককে হারিয়েছে। এ আমার স্বজন হারানোর যন্ত্রণা।

গুলশান হামলার  বিষয়ে ফারিয়া বলেন, ”এখন শুধু মনে ভয় হচ্ছে, কারণ আমিও তো জঙ্গিদের টার্গেট হতে পারি। কোনোদিন হয়তো জঙ্গিরা বলবে, ‘তুমি মুসলমান, তুমি সিনেমা করছ কেন? তাই তুমিই টার্গেট।” কারণ হিজাব পরেনি বলে নির্মমভাবে হত্যা করেছে ইশরাত আকন্দকে। তাহলে আমি তো হিজাব পরি না। আসলে আমরা এখন এমন একটা সময়ে আছি, যেখানে কারও ওপর জোর করে তুমি কিছু চাপিয়ে দিতে পারে না। কিন্ত, এ জন্য কাউকে খুন করে ফেলবে?”

তিনি আরও বলেন, ”আমি মনে করি, সব ধর্মেরই এক কথা। মিথ্যে বলো না। সত্য থাকো। বড়দের সম্মান কর। তুমি যদি সত্যিই জিহাদ করবে, ধর্মের জন্য লড়াই করবে, তা হলে মানুষকে বোঝাতে পার। খুন করবে কেন?” ঘটনার দিন তিনি দেশে না থাকলেও মুম্বাইয়ে বসে পরিবারের জন্য দুশ্চিন্তায় আর উতকন্ঠার  কাটিয়েছেন সময়গুলো। মায়ের ফোনে প্রথম জানতে পারেন ওই নারকীয় ঘটনার কথা। তারপরে মুম্বাইয়ে সামাজিক মাধ্যমে ঘটনার তীব্রতা দেখেছেন তিনি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ”একে একে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, টুইটার… ছবি দেখলাম। আম্মুর গলাটা ফোনে কেন কাঁপছিল, আমার কাছে পরিষ্কার হয়ে গেল। দেশ থেকে বহু দূরে মুম্বাইয়ের সাত তারা হোটেলে বসে ভয়ে আমার হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে গেল। এত রক্ত…! একটাই কথা মনে হলো, আমিও তো ওখানে থাকতে পারতাম।”