নাইকোর সকল সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ

নাইকোর সকল সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ

SHARE
Nike's orders for seizure of all assets

কানাডাভিত্তিক জ্বালানি কোম্পানি নাইকো রিসোর্সের সঙ্গে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) ও পেট্রোবাংলার দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অবৈধ ঘোষণা করে টেংরাটিলার ক্ষতিপূরণ বাবদ নাইকোর সকল সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন।

বাপেক্সের সঙ্গে নাইকোর করা যৌথ উদ্যোগ চুক্তি কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে ২০১৬ সালের ৯ মে রুল দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আদালত ওই চুক্তির কার্যকারিতা স্থগিত করেছিলেন।

জনস্বার্থে করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে এই রুল ও স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান এবং নাইকো কানাডা ও নাইকো বাংলাদেশকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছিল।

২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি ও ২৪ জুন সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার ছাতক (টেংরাটিলা) গ্যাসক্ষেত্রে পরপর দু’টি বিস্ফোরণ ঘটে। এ বিস্ফোরণের জন্য ক্ষেত্রটির ইজারাদার ও পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কানাডার কোম্পানি নাইকো রিসোর্সকে দায়ী করে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আদালতে আইনি লড়াই করছে পেট্রোবাংলা। এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট থেকে এই রায় আসলো।

এই মামলা ছাড়াও নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় আরেকটি মামলা করেন দুদক। ওই মামলায় ২০০৮ সালের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ওই চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়।

১৯৫৯ সালে আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রটির প্রাক্কলিত মজুদ ৪৭৪ বিলিয়ন ঘনফুট (বিসিএফ) গ্যাস থেকে উত্তোলন করা হয়েছে মাত্র ২৬ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ঘনফুট। এতে এখনও উত্তোলনযোগ্য ৪৪৭ বিসিএফ ঘনফুট গ্যাস থাকার কথা।

কিন্তু বিস্ফোরণের সময় ও পরে ক্ষেত্রটিতে বিপুল পরিমাণ গ্যাস পুড়ে যাওয়ায় এবং উদগিরণের ফলে এই গ্যাসক্ষেত্রে উত্তোলনযোগ্য গ্যাস নেই বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। একইসঙ্গে ওই এলাকার পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও কৃষিক্ষেত্র দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির শিকার হয়েছে।

LEAVE A REPLY