ত্বকের যত্নে আমলকীর ব্যবহার

ত্বকের যত্নে আমলকীর ব্যবহার

SHARE
Amla for skin care

আমাদের সকলের কাছেই উপকারী ফল হিসেবে পরিচিত আমলকী। ত্বকের যত্নেও খুবই উপকারি এই ফল কেননা এতে রয়েছে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্ট । আমলকীর রসের সঙ্গে আরও কিছু প্রাকৃতিক উপাদান মিশিয়ে মুখে মাখলে ত্বক থাকবে উজ্জ্বল ও সতেজ। আসুন জেনে নিই ত্বকের যত্নে আমলকীর ব্যবহার-

ত্বক মসৃণ করে
আমলকী ত্বকের রং উজ্জ্বল করতে দারুণ কাজে দেয়। এক্ষেত্রে রোজ সকালে আমলকির রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে পান করলে একমাসের মধ্যেই চোখে পরার মতো ত্বকের পরিবর্তন হয় । এছাড়া আমলকীর রস মুখে সরাসরি ব্যবহার করলে ত্বকের রঙ উজ্জ্বল হয় এবং ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো থাকে।

বয়সের ছাপ দূর করে
আমলকীর রস নিয়মিত পান করলে ত্বকে বার্ধক্যের ছাপ সহজে পরে না। আর যদি এমনটা করতে ইচ্ছা না হয়, তাহলে আমলকীর রসের সঙ্গে বাদাম তেল মিশিয়ে মুখে মাখতে পারেন। এমনটা করলে ব্রণ সহ যে কোনও দাগ দূর হয় এবং ত্বককে সুন্দর রাখে।

দাগ দূর করে
আমলকীর রসের সঙ্গে অ্যালোভেরার রস মিশিয়ে মুখে মাখুন। এতে মুখের যাবতীয় দাগ দূর হয় এবং বয়সের ছাপ কমতে শুরু করে।

ছোপ দূর করে
আমলকীর রসের সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে মুখে মাখলে মুখের কালো ছোপ ভাব দূর হয়। শুধু তাই নয়, তৈলাক্ত ত্বকের জন্য এই মিশ্রন খুবই উপকারি ভূমিকা নেয়।

টক্সিক উপাদান শরীরে থেকে বের করতে
আমলকীর রস প্রাকৃতিক উপায়ে রক্ত শোধন করতে পারে। ফলে ত্বকের যাবতীয় সমস্যাও দূর হতে সময় লাগে না। এছাড়া আমলকীর রসের সঙ্গে পুদিনা পাতার রস মিশিয়ে ব্রণের ওপর লাগালে খুব দারুন উপকার পাওয়া যায়। এই মিশ্রণটি মুখে সারা রাত লাগিয়ে রেখে পরের দিন  ধুয়ে নিলে ব্রণ এবং অ্যাকনের মতো সমস্যা থেকে খুব সহজে মুক্তি পাওয়া যায়।

মৃত কোষের স্তর সরে যায়
আমলকীর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। যে কারণে এই ফলটির নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের মরা কোষ দূর হয়ে যায়। এক্ষেত্রে আমলকীর রসের সঙ্গে চালের গুঁড়ো, মধু, গোলাপ জল মিশিয়ে একটি পেস্ট বানাতে হবে। অল্প পরিমাণে এই পেস্ট নিয়ে মুখে ম্যাসাজ করলে ত্বক থেকে মরা কোষ দূর হবে এবং ত্বক উজ্জ্বল হয়ে উঠবে। ভাল ফল পেতে সপ্তাহে দুবার এই পেস্ট ব্যবহার করতে হবে।

স্কিন ডিজিজের চিকিৎসায়
আমলকী বাঁটা, কয়েক চামচ দুধের সঙ্গে মিশিয়ে সারা মুখে লাগিয়ে নিন। ৪০ মিনিটের জন্য রেখে দিন। এই মিশ্রণটি ত্বককে যে কোনো ধরনের সমস্যা থেকে দূরে রাখবে এবং ত্বককে উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করবে।

কোলাজেনের ঘাটতি দূর হয়
আমলকীর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে, যা ত্বকের অন্দরে প্রচুর পরিমাণে কোলাজেন তৈরি করে, সেই সঙ্গে ত্বকে স্থিতিস্থাপক গুণ বৃদ্ধি করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ত্বক ফর্সা হতে শুরু করে। এক্ষেত্রে কয়েক চামচ বাদাম গুঁড়ো, ২ চামচ চন্দন গুঁড়ো, তিন চামচ আমলকীর রস মিশিয়ে একটি মিশ্রন তৈরি করে নিতে হবে। এই মিশ্রন মুখে মাখলে যে কোনও দাগ এবং বয়সের ছাপ দূর হবে।