তৃতীয় দিন শেষে এগিয়ে অস্ট্রেলিয়া

তৃতীয় দিন শেষে এগিয়ে অস্ট্রেলিয়া

SHARE
Third day at the end of the third day

যদিও ক্রিকেট অনিশ্চয়তার খেলা, তারপরও বর্তমান পরিস্থিতি বলছে গত দুইদিন বাংলাদেশ ম্যাচের লাগাম নিজেদের হাতে রাখলেও তৃতীয় দিন শেষে এগিয়ে অস্ট্রেলিয়া।

বাংলাদেশের দেয়া ২৬৫ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ২ উইকেটেই ১০৯ রান তুলে ফেলেছে অস্ট্রেলিয়া। এতে ঢাকা টেস্টে জয়ের জন্য সফরকারীদের দরকার ১৫৬ রান। অজিদের হাতে আছে ৮ উইকেট।

শেষ বিকেলে সাকিব, মিরাজ দুই উইকেট নিয়ে পরিবেশ গরমও করে তোলেন। কিন্তু পথের কাটা হয়ে থেকে গেছেন দুই ‘মহারথী’ স্টিভেন স্মিথ (২৫) এবং ডেভিড ওয়ার্নার (৭৫)। জয়ের জন্য সামনের দুইদিনে তাদের করতে হবে ১৫৬।

ইনিংসের শুরুতেই ধাক্কা দিয়েছিলেন সাকিব-মিরাজ। এক রানের মধ্যে আউট হয়ে গেলেন ম্যাথু রেনশ ও ওসমান খাজা। ২৮ রানে ২ উইকেট হারিয়ে প্রথম ইনিংসের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে পাল্টা আক্রমণ ও ভাগ্যের সহায়তায় সে ধাক্কা সামলে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। তবে মিরপুরের পিচ ও অস্বাভাবিক আচরণ করছে। গত দুই দিনের ‘আনপ্লেয়েবল’ শেষ সেশন কোথায় মিলিয়ে গেল কে জানে! ফ্ল্যাট উইকেটে একের পর এক হাফ পিচ ডেলিভারির শাস্তি দিয়েছেন ওয়ার্নার-স্মিথ। সিরিজের প্রথম ফিফটি তুলে নিয়েছেন ওয়ার্নার। এই ওপেনার অপরাজিত আছেন ৭৫ রানে। অধিনায়ক স্মিথের রান ২৫।

এর আগে চা বিরতির পরপরই ২২১ রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। ২৬৫ রানের টার্গেট দিয়েও হাসিখুশি দেখাচ্ছিল বাংলাদেশকে। মিরপুরে সবচেয়ে বেশি রান তাড়া করার রেকর্ডটা যে মাত্র ২০৮ রানের।

লক্ষ্য আরও বড় দিতে পারত বাংলাদেশ। কিন্তু মুশফিকুর রহিম অদ্ভুতুড়ে আউট হয়েই ঝামেলা বাধিয়ে দিয়েছেন। ৪১ রান করেছেন অধিনায়ক। কিন্তু ননস্ট্রাইক প্রান্তে ক্রিজে না থাকার মাশুল দিয়েছেন মুশফিক। লায়নের হাত ছুঁয়ে বল স্টাম্পে যাওয়ায় রানআউট হয়ে ফিরেছেন। এরপর চার বল খেলে কোনো রান না করেই ওয়েডের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন নাসির হোসেন। সাব্বির খেলছিলেন নিজের মারমুখী ভঙ্গিতেই। কিন্তু আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তে তাঁকেও ফিরতে হয়েছে। প্রথম ইনিংসের ভুলের পুনরাবৃত্তি না করতেই হয়তো আর রিভিউ নিলেন না। শূন্য রানে তিন উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। এরপর মিরাজ আর শফিউলেই দুই শ পেরোয় স্বাগতিক দল।

প্রথম সেশনেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় বাংলাদেশ। তাইজুল ইসলাম আর ইমরুল কায়েস ফিরে গেলেও আক্রমণটা সচল রেখেছিলেন তামিম ইকবাল ও অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। প্রথম ইনিংসের মতো এই ইনিংসেও দারুণ ধারালো তামিমের ব্যাট। মুশফিকও যেন প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলেন প্রথম ইনিংসের বড় রান না করার দুঃখটা ঘোচাতে। তবে মধ্যাহ্নবিরতির পরই ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশ। তামিমের পর দ্রুত আউট হয়েছেন সাকিব আল হাসানও। তামিম আউট হয়েছেন ৭৮ রানে। ১৫৫ বলের ইনিংসে ছিল ৮টি চার। প্রথম সেশনের দুই ঘণ্টায় ৮৭ রান তুলেছিল বাংলাদেশ।

সকালে তাইজুলের ফেরাটা খুব অপ্রত্যাশিত ছিল না। ‘নাইটওয়াচম্যান’ হিসেবে ভালোই খেলে গেছেন তিনি। ২২ বল খেলে ৪ রান করেছেন। কিন্তু সত্যিকারের ধাক্কা হয়ে আসে ইমরুলের উইকেটটি। নাথান লায়নের বলে বারবার পরাস্ত হচ্ছিলেন। অফস্টাম্পের ওপর দুর্বলতাটা বোঝা যাচ্ছিল। ইমরুলের সেই দুর্বল জায়গায় একের পর এক বল করে ফল পেলেন অস্ট্রেলীয় অফস্পিনার। ১৮ বল খেলে ২ রান করে ফিরেছেন ইমরুল। স্লিপে তাঁর ক্যাচটি নিয়েছেন ডেভিড ওয়ার্নার।

দিনের প্রথম বলেই ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়ে প্যাট কামিন্সকে সীমানাছাড়া করেছিলেন তামিম ইকবাল। চতুর্থ বলে আবার স্লিপ ও গালির ফাঁক গলে বাউন্ডারি। দিনের শুরুটা একেবারে মনের মতোই হয়েছিল বাংলাদেশের।

কামিন্সের বলে তামিমের বিরুদ্ধে একটি এলবিডব্লিউর জোরালো আবেদন হয়েছিল। মাঠের আম্পায়ার আলিম দার তাতে ‘না’ বলে দেওয়ায় অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ রিভিউও নিয়েছিলেন, কিন্তু টিভি আম্পায়ার ইয়ান গোল্ড নিশ্চিত করেছেন, আলিম দারের সিদ্ধান্ত ঠিকই ছিল।

 

LEAVE A REPLY