ঢাবি নতুন ভিসি নিয়োগ

ঢাবি নতুন ভিসি নিয়োগ

SHARE
DU-new-VC

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি হিসেবে সাময়িকভাবে নিয়োগ পেয়েছেন প্রো ভিসি  অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান। প্রেসিডেন্টের আদেশক্রমে সোমবার এই সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। চলুন জেনে নিই ঢাবি নতুন ভিসি নিয়োগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিককে ২০০৯ সালের ১৫ই জানুয়ারি প্রথম দফায় ভিসি হিসেবে নিয়োগ দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন আচার্য ও প্রেসিডেন্ট ড.  ইয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ। ওই মেয়াদ শেষে ২০১৩ সালের ২৫শে আগস্ট তিনি  দ্বিতীয় দফায় নিয়োগ পান। তার মেয়াদ শেষ হওয়ায় ভিসি নির্বাচনে তিন সদস্যের প্যানেল মনোনীত করতে গত ২৯শে জুলাই সিনেটের বিশেষ সভা ডাকা হয়। ওই বিশেষ সভার জন্য গত ১৬ই জুলাই সিনেট সদস্যদের চিঠি পাঠান বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার। গত ২৯শে জুলাই সিনেটের বিশেষ সভায় তিনজনের উপাচার্য প্যানেল নির্বাচন করা হয়। প্যানেলের তিন সদস্য হলেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক এবং বিদায়ী ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দীন এবং থিওরিটিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটেশনাল কেমিস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আজিজ। ওই তিনজনের একজনকে ভিসি এবং বাকি দুজনকে প্রো ভিসি হিসেবে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। যে সিনেট অধিবেশনে এই ভিসি প্যানেল মনোনীত করা হয়, সেই  সিনেটের বিশেষ সভার নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ জন শিক্ষকসহ ১৫ জন রেজিস্ট্রার্ড গ্র্যাজুয়েট হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। রিটের ওপর গত ২৪শে জুলাই শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুলসহ নোটিশের কার্যকারিতা স্থগিত করেন। পরে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে ঢাকা  বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সুপ্রিমকোর্টের চেম্বার আদালতের বিচারপতির কাছে আবেদন করেন। এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৬শে জুলাই চেম্বার বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন। একই সঙ্গে আবেদনটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠিয়ে দেন। এই আদেশের পর সিনেট অধিবেশন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শুনানি শেষে গত ৩রা আগষ্ট এক আদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নির্বাচনের জন্য সিনেটে মনোনীত তিন সদস্যের প্যানেলের পরবর্তী কার্যক্রম স্থগিতের আদেশ দেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগ।  একই সঙ্গে এ সংক্রান্ত হাইকোর্টের জারি করা রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন সর্বোচ্চ আদালত। মুলতবি ছাড়াই চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের নিষ্পত্তি করতে এবং রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান ভিসি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন বলে আপিল বিভাগের আদেশে বলা হয়। নতুন ভিসি নিয়োগের ফলে সুপ্রিমকোর্টের আদেশ অমান্য করার অভিযোগ উঠেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভিসি নিয়োগে বিতর্ক থাকলেও আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। রাষ্ট্রপতি তার নিজ ক্ষমতাবলে আইনি প্রক্রিয়ায় সাময়িকভাবে ভিসি নিয়োগ দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি এটা করতে পারেন। সংবিধান তাকে এ ক্ষমতা দিয়েছে।

আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

ভিসি নিয়োগ প্যানেল আদালত স্থগিত করেছে তারপরও কীভাবে ভিসি নিয়োগ করা হলো-সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তবে আইনের ব্যত্যয় ঘটেনি। রাষ্ট্রপতি এটি করতে পারেন ’

তিনি আরও বলেন, আরেফিন সিদ্দিক যখন প্রথম দফায় সাময়িকভাবে উপাচার্য হলেন, তখন এই শর্তগুলোই লেখা ছিল। সাময়িক নিয়োগ হলেও চার বছরের জন্য নিয়োগ দেয়ার সময় যেসব শর্ত লেখা থাকে, নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রেও তাই আছে।

LEAVE A REPLY