ঠোঁটকে করে তুলুন আরো সুন্দর প্রাকৃতিকভাবেই

ঠোঁটকে করে তুলুন আরো সুন্দর প্রাকৃতিকভাবেই

SHARE
Thotke kore tulin aro sundor prakritikvabei

নারীরা তাদের রূপ সম্পর্কে খুবই সচেতন। রূপচর্চায় বেশির ভাগ পণ্যই অস্থায়ী ফলাফল এবং দীর্ঘস্থায়ী পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া প্রদান করে থাকে। পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়া সুন্দর ঠোটের জন্য সবচেয়ে ভাল উপায় বাড়িতে ঠোঁটের যত্ন নেয়া।

১ মধু ও লেবুর মিশ্রণ

মধু ও লেবুর রসের মিশ্রণ তৈরি করে এটি ফ্রিজ মধ্যে ১০ মিনিট রেখে দিন। এবার আপনার ঠোঁটে এই মিশ্রণটি প্রয়োগ করুন এবং এক ঘন্টা লাগিয়ে রাখুন। এক ঘণ্টা পরে ঠোট ধুয়ে ফেলুন। প্রতিদিন ২ থেকে ৩ বার এই প্রতিকারটি ব্যাবহার করুন। লেবু চামড়ার স্বাভাবিক রং কমাতে পারে। তাছাড়া মধু চামড়ার পুষ্টিহীনতার অভাব দূর করে থাকে এবং ঠোটকে আরও স্বাস্থ্যসম্মত করে তুলে। মধু ঠোটকে আগের চেয়েও বেশী গোলাপী করতে সাহায্য করে থাকে।

২ গ্লিসারিন

আপনার শুকনো এবং কালো ঠোঁটের পিছনে অন্যতম কারন গ্লিসারিনের অভাব।কেননা গ্লিসারিন আপনার ঠোঁটের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। কালো এবং শুষ্ক ঠোঁটের অন্যতম কারণ পানি এবং ডিহাইড্রেসনের অভাব। বেশী বেশি পানি পান করুন যা আপনার শরীরকে আরও সতেজ রাখবে। আর পানি শুষ্ক ঠোঁটের অন্যতম প্রতিকার।

৪ বীট–পালং

৫ মিনিটের জন্য আপনার ঠোঁটে এক টুকরা ধোয়া বীট গাছ রুট লাগান। কিছু সময়ের জন্য এটি রেখে দিন। একটু পরেই দেখবেন আপনার ঠোট সব রস শোষণ করে নিবে। এর ফলে আপনার ঠোঁটের রং হবে আরও গোলাপী।

৫ ঠোঁটের জন্য ক্ষতিকারক পণ্য এড়িয়ে চলুন

সস্তা এবং নিম্ন মানের ঠোঁটের পণ্য ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। এসব পণ্য আপনার ঠোঁটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট করে দেয় এবং আপনার ঠোটের স্বাভাবিক রং পরিবর্তন করে দেয়। সব সময় ভেষজ পণ্য ব্যবহার করুন। ঠোঁটের ট্যানিং এবং ঠোঁটের স্বাভাবিক রং ধরে রাখতে প্রাকৃতিক ফলের জুস পান করুন।

৬ বাদামের তৈল

ঠোঁটের অস্বাভাবিক রং হ্রাস করার জন্য ঠোঁটে বাদামের তেল ব্যবহার করুন। তবে ঘুমোতে যাওয়ার আগে এটি ব্যবহার করলে ভাল ফল পাবেন।

৭ শসার রস

শসার রস ঠোঁটের স্বাভাবিক রং পেতে এবং ঠোঁটের রং এর উন্নতিতে সাহায্য করতে পারে।

৮ লেবু

লেবু প্রাকৃতিক পরিষ্কারক এজেন্ট হিসাবে কাজ করে। এটি ত্বককে মসৃণ করতে ব্যবহার করা হয়। কালো ঠোঁটের জন্য সবচেয়ে কার্যকর ভেষজ প্রতিকারের একক হিসাবে ব্যবহার করা হয় লেবু। ঠোঁটে লেবুর রস প্রয়োগ করার ফলে আপনার ঠোঁট হবে হালকা। আর ভাল ফলের জন্য কয়েক মাস এই পদ্ধতি অনুসরণ করুন। এক টুকরা লেবু আপনার ঠোঁটে ঘসা-মাজা করতে পারেন। এটি আরো কার্যকর হবে যদি লেবুতে কিছু চিনি ছিটিয়ে দেন। ২ থেকে ৩ সপ্তাহের জন্য এই পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন।

এছাড়াও আপনি আপনার ঠোঁটকে আরও আকর্ষণী এবং উন্নত করার জন্য লেবুর রস, (প্রতিটি টেবিল চামচ 1/2) মধু এবং গ্লিসারিন দিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে নিয়মিত ব্যবহার করতে পারেন।

৯ গোলাপ

গোলাপ আপনার ত্বককে শীতল এবং ময়শ্চারাইজিং করতে সাহায্য করে। এটি আপনার ঠোঁটের রঙকেও উন্নত করে থাকে।

কিছুটা পানির মধ্যে গোলাপের পাপড়ি নিন। এর সাথে অল্প পরিমাণ মধু যোগ করুন। এবার মিশ্রণটা আপনার ঠোঁটে প্রয়োগ করুন। প্রতিদিন তিনবার এই পদ্ধতি ব্যবহার করলে অবশ্যই আপনি ভাল ফলাফল পাবেন।

গোলাপের পাপড়ির পেষ্ট, মধু এবং মাখন (1 tbsp প্রতিটি) দিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করে নিন। এই মিশ্রণটি সপ্তাহে ২থেকে৩ বার আপনার ঠোঁট ব্যবহার করুন।

কাঁচা দুধে গোলাপের কিছু পাপড়ি ভিজিয়ে রাখুন। এক ঘণ্টা পর এই পাপড়ির পেষ্ট, ১/২ tbsp মধু এবং কিছু জাফরান নিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করে তা আপনার ঠোঁটের উপর প্রয়োগ করুন এবং এটি 15 মিনিটের জন্য রেখে দিন। পরে তা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

১০ অলিভ অয়েল

জলপাই তেল আপনার ঠোঁটকে নরম এবং ময়শ্চারাইজ করতে সাহায্য করে। প্রতি রাতে জলপাই তেল বা অলিভ অয়েল দিয়ে আপনার ঠোঁট ম্যাসেজ করুন।

জলপাই তেলের সাথে চিনি মিশিয়ে একটি প্রাকতিক মিশ্রণ তৈরি করে কয়েক মাসের জন্য প্রতি সপ্তাহে এই মিশ্রণ ব্যবহার করুন। এটি আপনার ঠোটকে আরও পাতলা বানাবে।

১১ চিনি

আপনার ঠোঁট থেকে সব মৃত ত্বক কোষ অপসারণে সাহায্য করে থাকে চিনি।

দস্তার চিনি (৩ টেবিল চামচ) এবং মাখন (২টেবিল চামচ) এর একটি মিশ্রণ তৈরি করুন। মিশ্রণটি ঠোঁটে আলতো করে ব্যবহার করুন এবং সপ্তাহের একবার করে তিন মাস ব্যবহার করলে অবশ্যই ভাল প্রতিকার পাবেন।

মধু (১টেবিল চামচ) এবং বাদাম তেলের (1/2 টেবিল চামচ) সঙ্গে চিনি (১টেবিল চামচ) মিশিয়ে একটি ভাল মিশ্রণ তৈরি করতে পারেন। এই মিশ্রণটি ব্যবহারের ফলে আপনার ঠোঁট নরম এবং পাতলা হবে। প্রতি সপ্তাহে এই একই পদ্ধতি অনুসরন করুন।

১২ মধু

মধু আপনার ঠোঁটকে আর্দ্র এবং গোলাপী করে।

প্রতি রাতে আপনার ঠোঁটে সামান্য পরিমাণ মধু লাগান। এরপর কিছু গরম পানি ব্যবহার করে সকালে ধুয়ে পরিষ্কার করে ফেলুন। এই পদ্ধতিটি আপনার ঠোঁটের রঙ হালকা করবে।

ময়দা, মধু এবং দইয়ের একটি মিশ্রণ (প্রতিটি ½ টেবিল চামচ) তৈরি করুন এবং আপনার ঠোঁটের উপর এই মিশ্রণ প্রয়োগ করে আধা ঘন্টার জন্য রেখে দিন। তারপর গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পেতে এটি নিয়মিত অভ্যাস করুন।

১৩ মধু এবং বাদামের তেল

মধু (১টেবিল চামচ) এবং বাদামের তেল (১টেবিল চামচ) মিশিয়ে তা ঠোঁটে লাগান এবং আধ ঘন্টা পরে হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পেতে এটি দিনে তিনবার ব্যবহার করুন।

১৪ ক্রিম এবং গোলাপের পাপড়ি

কিছু গোলাপের পাপড়ি পিষে একটি সূক্ষ্ম পেস্ট বানান। এই পেস্টে দুধের ক্রিম এবং মধু যোগ করে তা আপনার ঠোঁটে প্রয়োগ করুন। ২০ মিনিট রাখার পরে পানি দিয়ে ঠোঁট ধুয়ে ফেলুন।

এটি আপনার ঠোঁটকে আরও পাতলা এবং লাল করবে এবং আঁশ উঠাতে সাহায্য করবে।

১৫ পাতি লেবু এবং হলুদ

লেবুর রস এবং হলুদ গুঁড়া দিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন এবং এটি আপনার ঠোঁটে প্রয়োগ করুন। এবার প্রায় ১০ মিনিট পরে উষ্ণ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

১৬ কালো ঠোঁটের জন্য

  • সর্বদা আলতো করে ঠোঁট ঘোষবেন। কারন জোরে জোরে ঠোঁট ঘোষলে চামড়ার ক্ষতি হতে পারে।
  • যতোটুকু পারেন ঠোঁটে glosses এবং lipsticks এড়িয়ে চলুন।
  • রাতে বিছানায় যাবার আগে আপনার ঠোঁট থেকে সব প্রসাধনী ধুয়ে ফেলুন।

এই প্রতিকারগুলো সহজ এবং অনুশীলন করতেও বেশ সহজ। আর এর মাধ্যমে আপনার ঠোঁটকে গোলাপী এবং স্বাভাবিকভাবেই সুন্দর করতে পারেন অতি সহজেই।

LEAVE A REPLY