চীনে টাইফুন হাতোর তাণ্ডবে নিহত ১২

চীনে টাইফুন হাতোর তাণ্ডবে নিহত ১২

SHARE
Typhoon killed in China killing 12

প্রলয়ঙ্করী টাইফুন হাতোর আঘাতে বুধবার দক্ষিণ চীনে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছে। এশিয়ার অর্থনৈতিক কেন্দ্র হংকংয়ে আঘাত হেনেছে ভয়াবহ শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় হাতো।

এদের মধ্যে হংকংয়ের নিকটবর্তী ম্যাকাও শহরে আট জন ও চীনের মূল ভূখণ্ডে মারা গেছে আরও চারজন। এ ঘূর্ণিঝড়ের কারণে চীনের দক্ষিণ উপকূল থেকে প্রায় ২৭ হাজার লোককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া আরেক ব্যক্তির নিখোঁজ থাকার কথা জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম।

বিবিসি জানিয়েছে, দশ মাত্রার এই টাইফুন হংকং পেরিয়ে বুধবার দুপুরে চীনের গুয়াংডং প্রদেশের ঝুহাই শহরের কাছ দিয়ে স্থলভাগে আঘাত হানে, সঙ্গে করে নিয়ে আসে তীব্র ঝড় ও প্রবল বৃষ্টি।

দশ নম্বর বিপদ সংকেতের টাইফুন হাতোর ১শ’ ৯০ কিলোমিটার গতির আঘাতে লন্ডভন্ড হয়ে পড়েছে হংকংয়ের জীবন যাত্রা। বাতিল হয়েছে পাঁচশো’র মতো ফ্লাইট। স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকার পাশাপাশি বন্ধ রয়েছে স্টক এক্সচেঞ্জ।

গত ৫ বছরে দেশটি এটিই সর্বোচ্চ সংকেত বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ। বিভাগটি আরো জানিয়েছে, এ ঝড়ের গতিবেগ প্রতিঘন্টায় সর্বোচ্চ ১৭৫ কিলোমিটার ছিল।

জলোচ্ছ্বাসে হংকংয়ের বিভিন্ন নিচু এলাকা প্লাবিত হয়, বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বিভিন্ন এলাকা।

হাতোর কারণে হংকংয়ে একশ কোটি ডলারের সমপরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকতে পারে বলে হিসাব করা হয়েছে।

জাপানি শব্দ ‘হাতো’র অর্থ ‘কবুতর’। এই ‘কবুতর’ এখন স্থলভাগের আরও ভেতরে প্রবেশ করে ক্রমশ শক্তি হারাচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

২০১২ সালের পর টাইফুন হাতোই সবচেয়ে বড় মাপের ঘূর্ণিঝড়। উপকূলের কাছাকাছি বাঁধের উপর জলোচ্ছ্বাসের তোড়ে সাগরমুখী বহু ঘরবাড়ি, ক্ষতিগ্রস্ত এবং বহু গাড়ি ভেসে গেছে। ঝড়ে বিদ্যুৎ, মোবাইল এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ে। একইসঙ্গে চীনের গুয়াংডং প্রদেশের ঝুহাইতে ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে।

ভূমিধস, বন্যা ও প্রাকৃতিক দূর্যোগের জন্যও সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে দেশটির গণমাধ্যম জিংজুয়াং খবর দিয়েছে।

 

LEAVE A REPLY