ঘুরে আসুন নারিকেল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনে

ঘুরে আসুন নারিকেল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনে

SHARE

বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিনে বঙ্গপসাগরের মাঝে অসংখ্য প্রবাল রাশি মিলে মিশে একাকার হয়ে তৈরি করেছে দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্ট মার্টিন। সাগরের সুনীল জলরাশি আর নারিকেল গাছের সারি এই দ্বীপকে দিয়েছে অপার সৌন্দর্য। বালুকাময় সৈকত, প্রবালের প্রাচীর আর কেয়া গাছের সারি এই দ্বীপকে দিয়েছে আলাদা এক বৈশিষ্ট যা আর কোথাও নেই।রাতের জোৎসনা এসে যখন লুটোপুটি খায় চিকচিকে বালুর বুকে, নীল আকাশ তখন আরও নীলাভ হয়। শুনশান নিরব রাতে চারিদিকে শুধু সাগরের হুংকার আর ঢেউ এর আছড়ে পড়ার গর্জন।

টেকনাফ থেকেও প্রায় ৯-১০ কিলোমিটার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের বুকে এই দ্বীপের অবস্থান। আয়তনে খুব বড় নয় এ দ্বীপ। নির্জন আর কোলাহলমুক্ত কয়েকটি দিন কাটানোর জন্য এই দ্বীপ তালিকার ওপরের দিকে থাকতে পারে।

ঘুরে আসুন নারিকেল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনে (2)

প্রবাল দেখতে চাইলে এই দ্বীপটিতে যাওয়া হবে বুদ্ধিমানের কাজ। যেতে চাইলে: ঢাকা থেকে সরাসরি সেন্ট মার্টিন যাওয়া যায় না। প্রথমে যেতে হবে টেকনাফ। টেকনাফ থেকে সকাল সাড়ে ৯টায় কয়েকটি জাহাজ ছাড়ে সেন্ট মার্টিনসের উদ্দেশে। এসব দ্বীপে এসে পৌঁছায় সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে। এই জাহাজগুলো আবার বিকেল ৩টায় সেন্ট মার্টিনস ছেড়ে চলে যায়। তবে এসব জাহাজ অফ সিজনে (এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) চলাচল করে না। ট্রলারে করে সারা বছরই সেন্ট মার্টিনসে যাওয়া যায়।

খাওয়াদাওয়ার ও থাকার ঝামেলা এড়াতে চাইলে আগে থেকে বুক করে আসাই ভালো। কয়েক ধরনের হোটেল আছে সেন্ট মার্টিনসে। খুব রিলাক্সে থাকতে চাইলে বাজারের পাশের হোটেলগুলো ভালো। ব্লু মেরিন, স্যান্ড শোর, সি ইন, প্রাসাদ প্যারাডাইস, কোরাল ভিউ ইত্যাদি ভালমানের হোটেল। তাছাড়া স্বল্প খরচে থাকার জন্য, নিঝুম দ্বীপে স্থানীয় মসজিদ কমিটির একটি বোর্ডিং আছেঃ ০১৭২৭-৯৫৮ ৮৭৯

সেন্টমার্টিন সতর্কবার্তা
ছবিতে লাল দাগ দেওয়া অংশ একটি মৃত্যুকূপ। এখানে ২০১৩-১৪ সালেই ১৪ জন মারা গেছেন। সুতরাং জেটি থেকে নামার পর নিতান্তই যদি আপনি সৈকতে হাটার লোভ সামলাতে না পারেন, তাহলে নীল দাগ ধরে হাটতে চাইলে হাটুন। তবে সাবধান! কোন ক্রমেই পানিতে নামবেন না। একবার পানিতে নামলে আপনার আর উঠতে ইচ্ছে করবে না এবং ডান দিকে হাঁটতে থাকলে হাটতে হাটতে আপনি সেন্টমার্টিনের মৃত্যু অন্তরীপ উত্তর-পূর্ব সৈকতে চলে যাবেন।

ঘুরে আসুন নারিকেল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনে (3)

দ্বীপের এই সৈকতে পরষ্পর বিপরীতমূখী পৃষ্ঠ ও তলদেশীয় স্রোতের কারণে অনেকগুলো ডুবো গর্ত বা খাদের তৈরী হয়েছে। তাছাড়া তলদেশীয় বিপরীত স্রোত (বটম কারেন্ট) আপনাকে টেনে নিয়ে যেতে পারে। সুতরাং অবশ্যই এই লাল চিহ্নিত বিপদজনক এলাকা থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকুন। যারা সাঁতার জানেন না তারা সেন্টমার্টিনে গোসল করা থেকে বিরত থাকাই উত্তম। কারণ কখন কোথায় খাদ সৃষ্টি হয় বলা মুশকিল। আর এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের তেমন ভূমিকা এখনও লক্ষ করা যায়নি। তাই নিজের জান নিজেই বাঁচান। সাঁতার যারা পারেন তারাও খুব গভীরে যাবেন না দয়া করে।

সেন্টমার্টিনের আশেপাশের অন্যান্য এলাকাঃ ছেঁড়াদ্বীপ, মাথিনের কুপ, কালো রাজার সুরঙ্গ