গরমে হঠাৎ জ্বরে করণীয়…

গরমে হঠাৎ জ্বরে করণীয়…

SHARE
Fever in summer

এসেছে গরমকাল। শীতের দিন থেকে গরমের দিনেই জ্বর-সর্দি, হাঁচি-কাশির প্রকোপ বেশি দেখা যায়। বছরের বিভিন্ন সময়ে প্রকৃতির রূপ বদলের সঙ্গে সঙ্গে রোগব্যাধির ধরণেও আসে নানা পরিবর্তন। আর ঋতু পরিবর্তনের ফলে বাতাসে আর্দ্রতার ওঠা-নামার কারণে এখন জ্বরের প্রকোপ তো হরহামেশাই দেখা দিচ্ছে। শুধু তাই নয় চিকিৎসকরা আরও বলেছেন যে, মানুষের হাঁচি-কাশির জীবাণু অন্যের শরীরে প্রবেশ করা, বাসা কিংবা অফিসের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ থেকে বাইরের প্রচণ্ড গরমে বের হওয়া, প্রচণ্ড ঠাণ্ডা পানি পান করা, বাড়ি ফেরার সঙ্গে সঙ্গে ঠাণ্ডা পানিতে গোসল ইত্যাদি কারণেও জ্বর হতে পারে। তবে কিছু সাবধানতা অবলম্বন করলে এই জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশেই কমে যায়। তাই এই গরমে হঠাৎ জ্বরে করণীয় সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে নেয়া ভালো। ফলে আপনি এবং আপনার পরিবার থাকবে সুস্থ, সবল ও রোগমুক্ত।

জ্বর হলে করণীয়ঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) মেডিকেল অফিসার রাজীব কুমার সাহা জানান, গরম আর ঠাণ্ডার এই আবহাওয়ায় এখন ভাইরাস জ্বরের প্রকোপ বেশি। প্রচণ্ড জ্বর, শরীর ব্যথা, বমি ইত্যাদি উপসর্গ নিয়ে অধিকাংশ রোগী আসছেন। এ জ্বর তিন থেকে সাত দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। তাছাড়া তিনি আরও যে কয়েকটি বিষয়ে বিশেষভাবে নজর দিতে বলেছেনঃ

ইনফেকশন কতটুকু হয়েছে তা না বুঝে হুটহাট করে কোনো ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করা ঠিক না।

দোকানদারের পরামর্শে কখনও কোনো ধরণের সর্দি-কাশির সিরাপ বা অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করা উচিত নয়। এতে বরং হিতে বিপরীত হতে পারে।

হাঁচি-কাশির সময় নাক-মুখ টিস্যু দিয়ে ঢাকুন, নির্দিষ্ট স্থানে সেই টিস্যু ফেলে দিন এবং সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধুয়ে নিন।

দুপুরে প্রচণ্ড রোদে বাইরে ঘোরাফেরা করা উচিত নয়। খুব প্রয়োজন থাকলে ছাতা ব্যবহার করা উচিত।

গরমের দিনে ধুলাবালি মারাত্মক ক্ষতিকর। তাই বাইরে বের হলে সবসময় মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। এতে একদিকে যেমন ধুলাবালি থেকে মুক্ত পাওয়া যাবে, অন্যদিকে বিভিন্ন রোগজীবাণু থেকে নিজে সংযত হওয়া যাবে।

জ্বরে খাদ্যবিধিঃ জ্বর হলে অনেক খাবারই হজম হয় না। আবার পর্যাপ্ত পরিমাণে পুষ্টিকর খাবার না খেলে শরীরও দুর্বল হয়ে যায়। তাই জ্বর হলে কী খেতে হবে এবং কী এড়িয়ে চলতে হবে সেই প্রসঙ্গে পরামর্শ দিয়েছেন ডায়েট অ্যান্ড ফিট এর পুষ্টিবিদ আদিবা ফারজিন। তার ভাষ্যমতে নিম্নক্তো ব্যবস্থা নেয়াটা জরুরিঃ

# প্রচুর পরিমাণ তরল খাদ্য খেতে হবে। যেহেতু জ্বর আসলে হজম ক্রিয়ায় সমস্যা হয় তাই নরম খাদ্য খেতে হবে। বিশেষ করে ভাত বেশিক্ষণ সেদ্ধ করে নরম করে খেতে হবে।

# বেশি ঝাল এবং মশলা জাতীয় খাবার কোনোভাবেই খাওয়া ঠিক হবে না। আর জ্বরাক্রান্ত ব্যক্তির যেহেতু মুখে রুচি কমে যায় এবং বমির কারণে বেশি পরিমাণ খাবার খেতে পারেন না, তাই কিছুক্ষণ পরপর উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার খেতে দিতে হবে। যাতে শরীরে শক্তির কোনো ঘাটতি না হয়।

# গলাব্যথা বা অস্বস্তিভাব কাটাতে আধা কাপ কুসুম গরম পানিতে আধা চামচ লবণ মিশিয়ে গার্গল করতে পারেন। এতে অনেকটাই আরামবোধ হবে।

# টক কামরাঙ্গা পুড়িয়ে ভর্তা বানিয়ে খেতে পারেন। সর্দিভাব অনেকটাই কমবে। তাছাড়া হালকা গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে খেতে পারেন। তাতে গলার ভেতরের খুশখুশে ভাবটা প্রায় পুরোপুরিভাবে কমে যাবে।

# বাহির থেকে এসে ভালো করে সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। যাতে ভাইরাসের সংক্রমণ না ঘটায়। বৃষ্টিতে ভিজতে ভালো লাগলেও এসময় বৃষ্টিতে ভেজা থেকে ১০০ হাত দূরে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সর্বোপরি, এখনকার জ্বর ভাইরাস হলেও তেমন আতঙ্ক হওয়ার কিছু নেই। উপরোক্ত বিষয়গুলো মেনে চললে এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিলে এই জ্বর সাধারণত এক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হয়ে যায়।