গরমে ঘামাচি থেকে মুক্তির উপায়

গরমে ঘামাচি থেকে মুক্তির উপায়

SHARE
Khamachi-rash

আমাদের কাছে একটি অতি পরিচিত নাম ঘামাচি। এটি একটি চর্মরোগ। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে মিলিরিয়া বলা হয়। ত্বকের মৃত কোষ এবং স্টেফ এপিডারমাইডিস নামের জীবাণু ত্বকের লোমকূপের সঙ্গে লুকিয়ে থাকা ঘামগ্রন্থির মুখ বন্ধ করে দেয়। উষ্ণ আবহাওয়ায় প্রতিনিয়ত শরীরে ঘাম তৈরি হতে থাকে। কিন্তু ঘামগ্রন্থির মুখ বন্ধ থাকায় সেই ঘাম বের হতে পারে না। তাই লাল ফুসকুড়ি বা দানার আকারে ফুলে ওঠে। চুলকানি ও লাল দানার পাশাপাশি এগুলো অনেক সময় জ্বালা করে এবং ত্বক লাল হয়ে যায়। ঘামাচি সাধারণত যেসব জায়গায় ভাঁজ পড়ে এবং কাপড়ের ঘষা বেশি লাগে সেসব স্থানে বেশি হয়। আসুন জেনে নিই গরমে ঘামাচি থেকে মুক্তির উপায় সম্পর্কে-

লেবুর রস

প্রতিদিন কমপক্ষে ৩-৪ গ্লাস লেবুর শরবত পান করুন একটু বেশি করে লেবু মিশিয়ে। এটি ঘামাচি নিরাময়ে কাজ করবে স্রেফ জাদুর মতই!

নিম পাতা

নিমপাতা ভালোভাবে বেটে নিন। খানিকটা পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন এবং আক্রান্ত জায়গায় লাগান। সম্পূর্ণ না শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। নিমপাতার এন্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান ঘামাচির জীবানু মেরে ফেলে দ্রুত আপনাকে ঘামাচি থেকে মুক্তি দেবে। কিছুক্ষণ পর তুলে ফেলুন। ভালো ফলাফল পাবার জন্যে দিনে ৪-৫ বার এটি করতে পারেন।

এলোভেরা

এলোভেরার রস বের করে ঘামাচি আক্রান্ত জায়গায় লাগিয়ে রাখুন না শুকোনো পর্যন্ত। এরপর ঠান্ডা পানিতে গোসল করে নিন।

ঠান্ডা পানি

ঠান্ডা পানিতে একটি পরিস্কার সুতি কাপড় ভেজান। তারপর সেটি তুলে আক্রান্ত জায়গায় লাগান যতক্ষণ না জায়গাটি পানি শুষে নিচ্ছে। এভাবে দিনে ২-৩ বার করুন। এতে ঘামচি দ্রুত সেরে উঠবে।

বরফ

ঘামাচি আক্রান্ত জায়গাটিতে খুব ভালোভাবে বরফ ঘষে নিন। দিনে দু থেকে তিন বার করুন। দেখবেন, খুব জলদিই সেরে যাবে ঘামাচি।

মুলতানি মাটি

৪-৫ টেবিল চামচ মুলতানি মাটি, ২-৩ টেবিল চামচ গোলাপজল ও পরিমান মতো পানি মিশিয়ে একটি ঘন পেস্ট তৈরি করুন। ঘামাচি আক্রান্ত জায়গায় পেস্টটি লাগান ও ২-৩ ঘণ্টা রাখুন। তারপর ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলুন।

বেকিং সোডা

১ কাপ ঠান্ডা পানিতে ১ টেবিল চামচ বেকিং সোডা নিন। একটি পরিস্কার কাপড় এতে ভিজিয়ে নিংড়ে নিন ও ঘামাচি আক্রান্ত জায়গায় লাগান।

এছাড়া প্রতিদিন  নিয়মিত গোসল করতে হবে। শরীর যতটা সম্ভব ঠান্ডা রাখতে হবে এবং প্রচুর পানি পান করতে হবে। এছাড়া ক্যালমিন, ম্যান্থল অথবা ট্রপিক্যাল স্টেরয়েড ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করা যায়। এছাড়া লেবিলিন এবং ট্রাইক্লসেন সমৃদ্ধ টেল্কম পাউডার ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যায়। গরমে হালকা ঢিলেঢালা পোশাক পরতে হবে এবং ঠান্ডা ছায়াযুক্ত জায়গায় থাকতে হবে। গোসলের পর তোয়ালে দিয়ে গা মোছার পরিবর্তে বাতাসে গা শুকানোর চেষ্টা করতে হবে। শরীরে তেল বা লোশন কম লাগাতে হবে। তবে ঘামাচির সমস্যা দীর্ঘ মেয়াদি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।