খালেদা জিয়ার সর্বশেষ অবস্থা জানালেন ফখরুল

খালেদা জিয়ার সর্বশেষ অবস্থা জানালেন ফখরুল

SHARE
Fakhrul said the latest situation of Khaleda Zia

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আপনারা জানেন আমাদের দেশের আইন অনুযায়ী জামিন পেতে হাইকোর্টে যেতে হবে। সেই সঙ্গে তার (খালেদা জিয়ার) জামিন চাইতে হবে। যেহেতু কোর্ট শুক্রবার ও শনিবার বন্ধ, আমরা আশা করছি আগামী রোববার বা সোমবারের মধ্যে যদি কাগজপত্র পাওয়া যায় তাহলে এ ব্যাপারে আইনী প্রক্রিয়ার কাজ শুরু হবে। কিছুটা কাজ চলছে।

শুক্রবার রাতে চেয়ারপার্সনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে বাদ আসর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি ও খালেদা জিয়ার রায় নিয়ে ব্রিফ করে বিএনপি।

রায়ের সার্টিফাইড কপি পাওয়া না পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এগুলো আমাদের আইনজীবীরা জানেন। তারা বলছেন যে এটা পসিবল। রোববার সোমবারের মধ্যেই আমরা এটাকে প্রোসেস করতে পারবো।

ঠিক এই মুহূর্তে চেয়ারপার্সনের কী পরিস্থিতি, এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, সবাই যা জানেন আমিও তাই জানি। পত্র পত্রিকায় যা দেখছি, খবর যা পেয়েছি, সেটা হচ্ছে উনাকে পুরোনো এবানডেন্ট সেন্ট্রাল জেলে সুপারের ঘরে রাখা হয়েছে।

‘আর পরিবারের সদস্যরা বিকেলে দেখা করতে গিয়েছিলেন। তাদের সাথে আমার এখনো কথা হয়নি। আমি ঠিক জানি না।’

খালেদা জিয়া শারিরিকভাবে অসুস্থ, তার খাবার ঔষুধপত্র সেসব নিয়ে কী পরিকল্পনা করছেন, জানতে চাইলে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, এসব নিয়ে আমি সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলতে পারবো না। তবে আমি আশা করছি এবং আমাদের প্রত্যাশা খালেদা জিয়া তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, দুই বারের বিরোধী দলীয় নেত্রী, জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলের নেতা, বৃহৎ রাজনৈতিক দলের চেয়ারপার্সন সুতরাং তার যেটা প্রাপ্য সেই অংশটাই পাওয়া উচিত।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে কী জানিয়েছেন, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশের বর্তমান অবস্থা আমরা তাদেরকে জানিয়েছি। আপনাদের সঙ্গে তো প্রতিদিন দু’ তিনবার করে কথা হয়। ওদের সঙ্গে আমাদের বছরেও একবার কথা হয় না।

প্রশ্ন আসছে ৮ তারিখে রায়ের তারিখ ঘোষণার পর তারিখ পরিবর্তন করার বিষয়ে আবেদন করা হয়েছিল কিনা। কারণ পরের দু দিন শুক্র ও শনিবার ছিল?

এমন জিজ্ঞাসার জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, এ ধরণের কথাগুলো আমি ঠিক বলতে পারবো না। আমি তো আইনজীবী নই। আমি এসব প্রোসেসের মধ্যে কাজ করি না।

খালেদা জিয়া কারাগারে রয়েছেন এই পরিস্থিতিতে দল এবং সাধারণ মানুষদের প্রতি আপনাদের কি আহবান থাকবে- জানতে চাইলে তিনি জানান, তাদের সকলের উদ্দেশ্যে আমাদের চেয়ারপার্সন তিনি শুধু বিএনপির চেয়ারপার্সন নয়, তিনি ষোল কোটি মানুষের নেতা, তার রাজনৈতিক জীবনটাই ছিল গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রামের জীবন। লড়াই করেছেন। উড়ে এসে জুড়ে বসেননি। এবং তিনি গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রামের করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। সংসদীয় গণতন্ত্রের এবং এই দেশে বহু উন্নয়ন কাজের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন।

‘তাকে এইভাবে একটা মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত করে এবং এখন তার বিরুদ্ধে যে সমস্ত প্রচারণা করা হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে, আমরা এতে শুধু লজ্জিত হচ্ছি না দু:খিত হচ্ছি না, বলা যেতে পারে এটাকে আমরা ধিক্কার জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, আমরা আশা করিনি আওয়ামী লীগের মতো একটি পুরোনো রাজনৈতিক দল তারা আজকে এই ধরণের আরেকটি রাজনৈতিক নেতাকে এভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য হীন পন্থার আশ্রয় নিবে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে খালেদা জিয়া নিজেই বলে গেছেন উল্লেখ করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, আপনারা শান্ত থাকবেন। আপনারা ধৈর্য হারাবেন না। এবং আমার মুক্তির জন্য বা গণতন্ত্রের জন্য আসন্ন নির্বাচনের জন্যে আমাদের যে আন্দোলন তা হলে শান্তিপূর্ণ সম্পূর্ণ অহিংস। নিয়মতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক উপায়ে।

দলের নেতৃত্বের প্রশ্নে মির্জা ফখরুল বলেন, এটা নিয়ে সংশয়ের কোন কারণ নেই। আমাদের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আমাদের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাবসেন্স অফ চেয়ারপার্সন। তিনি চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব পালন করছেন।

এসময় বিএনপির বিশেষ সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নওশাদ জমির, আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও চেয়ারপার্সনের মিডিয়া উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার উপস্থিত ছিলেন। [সুত্রঃ চ্যানেল আই]

LEAVE A REPLY