কাটাপ্পা কেন হত্যা করেন বাহুবলিকে

কাটাপ্পা কেন হত্যা করেন বাহুবলিকে

SHARE
kattappa-bahubali_

কাটাপ্পা কেন হত্যা করেন বাহুবলিকে? ২০১৫ সালে ‘বাহুবলি-১’ মুক্তির পর থেকেই এ বিষয়টি জানতে অধীর আগ্রহ ছিল বাহুবলির দর্শকদের। স্যোশাল মিডিয়ায় এ নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। বাংলাদেশি দর্শকের মাঝেও এ নিয়ে সৃষ্টি হয় প্রবল উন্মাদনা। দুর্বার আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষার পালা এবার শেষ হলো। অবশেষে জানা গেল কেন অমরেন্দ্র বাহুবলিকে খুন করেছিল কাটাপ্পা।

মাহিশমতি সম্রাজ্যের বংশীয় গোলাম কাটাপ্পা। যুগ যুগ ধরে তার পরিবার সেই সিংহাসনের দাসত্ব করে আসছে। রাজ্যের রাজার আদেশই পালন করেন কাটাপ্পা। আর রাজ আদেশেই বাহুবলিকে হত্যা করেন তিনি। কিন্তু কেন?

সিনেমাটির প্রথম ভাগের শেষ দৃশ্যে সেনাপতি কাটাপ্পা পেছন থেকে বাহুবলিকে তলোয়ার ঢুকিয়ে কেন হত্যা করে তা নিয়ে চলে ব্যাপক আলোচনা। বাহুবলিকে হত্যার সেই দৃশ্য  স্থান পায় ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে সেরা দৃশ্যগুলির মধ্যে।

‘বাহুবলি-২’ মুক্তির আগে পরিচালক এস এস রাজামৌলী হাস্যরস করে জানান, ‘আমি বলেছি জন্য কাটাপ্পা এমন করেছে!’ তবে দর্শক আগ্রহের আগুনে তা যেন কেরোসিনের কাজ করে। এর প্রতিফলন আমরা দেখতে পাই ‘বাহুবলি-২’ মুক্তির আগেই দর্শকদের উন্মাদমনায়। দুই বছরের এ অপেক্ষার অবসান ঘটায় ‘বাহুবলি : দ্য কনক্লুশন।’ আর তাতে দেখা যায় রাজার আদেশেই অমরেন্দ্র বাহুবলিকে হত্যা করেন কাটাপ্পা। আর পরিশেষে তার ছেলে মাহেন্দ্র বাহুবলির কাছে হত্যার ঘটনাটিই সবিস্তারে জানান তিনি।

‘বাহুবলি-২’ এর  দৃশ্য অনুযায়ী, রাজা বল্লাল দেব কাটাপ্পাকে আদেশ দেন বাহুবলিকে হত্যার জন্য। তা শুনে কাটাপ্পা রাজমাতা শিবাগামীর কাছে তার মত জানতে চান। ফিরিয়ে নিতে বলেন এই রাজ আদেশ। এ পাপ তিনি করতে পারবেন না বলে সাফ জানিয়ে রাজমাতার সম্মতি আছে কিনা জানতে চান।

কিন্ত বল্লালের ষড়যন্ত্র না বুঝে রাগান্বিত শিবাগামী বলেন, বাহুবলিকে মরতেই হবে। এ কথা শুনে কাটাপ্পা নিজের তলোয়ার বের করে রাজমাতাকে বলেন, এ পাপ আমি করতে পারবো না। আপনি বরং আমাকেই হত্যা করুন।

জবাবে শিবাগামী বলেন, ‘তুমি হত্যা না করলে আমি নিজেই তাকে হত্যা করবো। কারণ, সে হত্যাযোগ্য অপরাধ করেছে।’ এবার কাটাপ্পা বলেন, না রাজমাতা এই পাপ আপনি করবেন না। আমিই এ কাজ করবো।

আর সেই রাজ আদেশেই বাহুবলিকে হত্যা করেন কাটাপ্পা।

পরবর্তীতে কাটাপ্পার কাছে নিজের সন্তান বল্লাল দেবের মিথ্যে ষড়যন্ত্রের বিবরণ জানতে পেরে শিবগামী অমরেন্দ্র বাহুবলির সদ্যজাত সন্তান মহেন্দ্র বাহুবলিকে মহারাজা ঘোষণা দেন। কিন্তু বল্লাল দেব মহেন্দ্র বাহুবলিকেও হত্যার চেষ্টা করেন। নিজের জীবন দিয়ে শিবগামী কিভাবে মহেন্দ্র বাহুবলিকে বাঁচান এবং মহেন্দ্র বাহুবলির বেড়ে ওঠা ছিলো “বাহুবলি: দ্য বিগিনিং”-এ।

কাটাপ্পার কাছে সব ঘটনা জেনে মায়ের অপমান এবং পিতৃহত্যার প্রতিশোধ নিতে মহেসমতীতে ফিরে আসেন মহেন্দ্র বাহুবলি। তাঁর সঙ্গে যোগ দেন রাজপরিবারের গোলাম কাটাপ্পা। কারণ, রাজমাতা শিবগামীর ঘোষণা অনুযায়ী মহেন্দ্র বাহুবলিই মহেসমতীর বৈধ রাজা। তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন বল্লাল দেবের ক্রোধে ধ্বংস হয়ে যাওয়া কুন্দল রাজ্যের জনগণ, মহেসমতীর সাধারণ মানুষ আর কাটাপ্পার অধীনস্থ অল্পকিছু সংখ্যক সৈনিক। যুদ্ধকৌশলে জিতে যায় মহেন্দ্র বাহুবলি। এতে অবসান হয় বল্লাল দেবের আর মহেসমতী পায় তাদের নতুন মহারাজ মহেন্দ্র বাহুবলি।