এবার ধূমপান থেকে বাঁচাবে ঘরে তৈরি ওষুধ!

এবার ধূমপান থেকে বাঁচাবে ঘরে তৈরি ওষুধ!

SHARE
stop smoking

ধূমপান করা স্বাস্থ্যের পক্ষে খুবই ক্ষতিকর। ধূমপায়ী পদার্থে থাকে প্রচুর পরিমাণে নিকোটিন যা ফুসফুস ক্যান্সার থেকে শুরু করে লিভার সিরোসিস এমনকি লিভার ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে। ধূমপান করলেই যে কেবল ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে তা নয় বরং পরোক্ষ ধূমপান এর কারণেও ধূমপান সংশ্লিষ্ট নানা রোগ হতে পারে।

তবে আজকাল যেভাবে ধূমপায়ীদের সংখ্যা বাড়ছে তাতে অতিরিক্ত সাবধান না হলে বড় ধরনের বিপদের সম্মুখীন হতে পারে। বিশেষ করে আজকালকার নতুন প্রজন্মের তরুণ-তরুণীদের এটা একটা ফ্যাশন শোর মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে যা অদূর ভবিষ্যতে বিরূপ প্রভাব ফেলবে বলে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন।

সিগারেটের তামাকে থাকা নিকোটিন ধীরে ধীরে ফুসফুসকে খারাপ করে দেয়। ফলে একটা সময়ে গিয়ে ফুসফুস এর ক্যান্সার সহ একাধিক মরণরোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। ফুসফুস আমাদের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এটি বিশুদ্ধ অক্সিজেনকে লোহিত রক্ত কণিকার মধ্যে প্রবেশ করাতে সাহায্য করে। ফলে লোহিত রক্ত কণিকা অক্সিজেনকে বহন করে নিয়ে পৌঁছে দেয় শরীরের বাকি অংশে। এই প্রক্রিয়াটির করণেই শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর কার্বন-ডাই-অক্সাইড বের করে দেওয়া সম্ভব হয়।

এ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বিজ্ঞানীরা একটি চমৎকার ঘরোয়া পদ্ধতির অবতারণা করেছেন যার মাধ্যমে বানানো ওষুধ প্রতিদিন খেলে একটু একটু করে ধূমপানের প্রভাব কমতে থাকবে। পদ্ধতির প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো হলোঃ

> ১ টুকরো আদাঃ আদায় জিঞ্জেরল নামক একটি অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বা প্রদাহরোধী উপাদান থাকে। যা শরীরে প্রদাহ কমিয়ে ফুসফুসকে চাঙ্গা করতে দারুন ভূমিকা রাখে।

> ৪ টুকরো পেয়াজঃ পেঁয়াজে অ্যান্টি-ক্যান্সার উপাদান থাকার কারণে নিকোটিনের প্রভাব কমাতে এটি দারুন কাজে আসে।পিঁয়াজ ফুসফুস থেকে সব ক্ষতিকর বিষ বের করে দিয়ে ফুসফুসকে ধীরে ধীরে চাঙ্গা করে তুলে। পিঁয়াজের বাহ্যত কোনো ক্ষতিকর দিক নেই। অসংখ্য গুণাবলি সমৃদ্ধ পেঁয়াজ একটি মারাত্মক উপকারী  অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট । তবে অধিক পেঁয়াজ খেলে মুখে গন্ধ হতে পারে।

> ২ চামচ হলুদঃ হলুদে আছে কার্কিউমিন নামের একটি উপাদান। এটি একই সঙ্গে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরির কাজ করে যা ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করে নানা ধরনের সংক্রমণ থেকে শরীরকে রক্ষা করে।

> চিনিঃ এতে প্রয়োজন পড়বে ২৫০ গ্রাম চিনির ঘন দ্রবন।

> পানিঃ মিশ্রণ একত্রিত করতে এবং ফুসফুস পরিষ্কার রাখতে পর্যাপ্ত পরিমান(১ লিটার) পানি দিতে হবে।

তৈরি পদ্ধতিঃ একটি বোলে ১ লিটার পানি নিয়ে তার মধ্যে চিনির ঘন দ্রবনটি ঢেলে দেই। পানি ফুটা শুরু হলে আদার টুকরাটি ছেড়ে দেই। এবার পেঁয়াজ কুচি করে কেটে সাথে দিয়ে দেই। কিছু সময় পর হলুদ ছাড়ি। এবার আঁচটা বন্ধ করে পানিটা ছেঁকে নিন। যখন দেখবেন পানিটা ঠান্ডা হয়ে গেছে তখন সেটিকে ফ্রিজে রেখে দিন। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এবং রাতে শুতে যাওয়ার আগে এক চামচ করে এই পানিটি পান করুন টানা কয়েক মাস। তাহলেই দেখবেন ফুসফুস সুস্থ হয়ে উঠেছে।