এবারে খুশকি তাড়াবে নিম!

এবারে খুশকি তাড়াবে নিম!

SHARE
Neem for dandraff

খুশকি খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। জীবনের কোনো না কোনো সময় প্রায় প্রত্যেক মানুষের মাথায় খুশকি হয়েছে বা এখনও হচ্ছে। মাথার ত্বক বা স্কাল্পে সব সময় কিছু নতুন কোষ উৎপন্ন হয় আর কিছু পুরনো কোষ ঝরে যায়। কিন্ত যখন পুরনো মরা কোষ জমে যায় এবং ফাঙ্গাস সংক্রমিত হয় তখনই খুশকি হয়। মাথা থেকে সাদা আঁশের মতো গুঁড়া পড়তে থাকে এবং সে সাথে চুলকানি হয়। প্রচুর তেলের ব্যবহার খুশকি হওয়ার একটি অন্যতম কারণ। মাথার ত্বক তেলের কারণে চিটটিটে হয়ে খুশকি হয়। আবার যথাযথ শ্যাম্পু ব্যবহার না করার কারণেও খুশকি হতে পারে। কিশোর বা তরুণ বয়সে ব্রণের সাথে খুশকিও খুব স্বাভাবিক একটা সমস্যা। স্কাল্প অত্যাধিক শুষ্ক হলেও খুশকি হতে পারে। কিন্ত ত্বক সমস্যা যেমনঃ সেবোরিক ডার্মাটাইটিস, সোরিয়াসিস, একজিমা, ফাঙ্গাল ইনফেকশন এবং অন্যান্য ব্যাক্টেরিয়াল ইনফেকশন বা সংক্রমণ খুশকির মতো মনে হতে পারে। মানসিক দুশ্চিন্তার কারণেও মাথায় খুশকি হতে পারে।

আর এই খুশকি তাড়াতে নিম পাতা একটি কার্যকরী ওষুধ। এটি প্রায় সবখানেই পাওয়া যায়। নিম পাতার উপাদান বিভিন্ন ত্বকের রোগ এবং চুলের সমস্যা সমাধানে ব্যবহৃত হয়। এতে রয়েছে রক্ত বিশুদ্ধকরন এবং জীবাণুনাশক উপাদান। এছাড়া আরো রয়েছে ছত্রাক, ভাইরাস এবং প্রদাহরোধী উপাদান। খুশকি তাড়িয়ে সুন্দর এবং ঝকঝকে চুল পাওয়ার জন্য  নিমের কার্যকর পদ্ধতিগুলো হলোঃ

১। নিমের রসঃ

প্রতিদিন সকালে নিম পাতা চিবিয়ে রস করে খাবেন। যেহেতু নিমের রস খুব তেঁতো তাই তেঁতো স্বাদ থেকে মুক্তি পেতে নীম পাতা সেদ্ধ করে রস বের করে তার সঙ্গে মধু মিশিয়ে জুস বানিয়ে খেতে পারেন। কয়েকদিনে ই দেখবেন খুসকি অনেকখানি কমে গেছে।

২। নিমের তেলঃ

নিমের তেলও খেলে বেশ উপকার পাওয়া যায়। নারকেল তেলের সঙ্গে বেশ কয়েকটি নিম পাতা মিশিয়ে সেদ্ধ করে কয়েকফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে নিন। তারপর আলতো করে মাথায় ঘষে ঘষে লাগান। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে লাগিয়ে নিন এবং সকালে উঠে গোসল করে ধুয়ে ফেলুন।

৩। নিম দইয়ের মিশ্রণঃ

নিম এবং দইয়ের মিশ্রণে তৈরি পেস্ট খুশকি তাড়াতে বেশ কার্যকর। প্রথমে নিম পাতা ছেঁচে পেস্ট তৈরি করুন। এরপর পরিমাণ মতো দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে পুরো মাথার ত্বকে লেপে দিন। এর ১৫-২০ মিনিট পর পানি দিয়ে আলতো করে ঘষে ঘষে ধুয়ে ফেলুন। নীমের ছত্রাকরোধী উপদান আর দইয়ের শীতল প্রভাব খুশকি তাড়াতে আপনাকে বিস্ময়কর ফল দিবে।

৪। নিমের মাস্কঃ

নিম পাতার সঙ্গে মধু মিশিয়ে পিষে পিষে ভারী পেস্ট তৈরি করুন। এরপর পুরো মাথায় চুলের মাস্কের মতো করে লাগিয়ে নিন। এভাবে ২০ মিনিট রেখে মাস্কটি একটু শুকিয়ে নিন। এরপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন আপনার ত্বকের অসাধারণ উপকার করেছে এই প্রক্রিয়াটি।

৫। নিমের কন্ডিশনারঃ

কিছু নিম পাতা প্রথমে সেদ্ধ করে তা ঠাণ্ডা করে রাখুন। চুলে শ্যাম্পু করার পর সেদ্ধ নিম পাতা ও রসের মিশ্রণ মাথার ত্বকে আলতোভাবে ঘষে ধুয়ে ফেলুন। এরপরই দেখতে পাবেন নীমের বিস্ময়কর কার্যকারিতা।

আয়ুর্বেদিক শাস্ত্র অনুযায়ী, নিমের যেসব ওষধি গুনাগুন আছে তা সব ধরনের চুলের রোগ সারাতে কাজে লাগে। তবে তা নিয়মিতভাবে ব্যবহার করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।