উদযাপিত হলো উদীচীর ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

উদযাপিত হলো উদীচীর ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

SHARE
udichi-inner-

দেশের অন্যতম প্রাচীন সাংস্কৃতিক সংগঠন উদীচী। শোষণহীন, মৌলবাদমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক, সাম্যবাদী সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে সংস্কৃতিকর্মীদের এক পতাকা তলে এসে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে উদযাপিত হলো উদীচীর ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

গতকাল রোববার বিকালে ঢাকার শাহবাগে কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান মিলনায়তনের বাইরে উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে উৎসবের উদ্বোধন করেন প্রবীণ কৃষকনেতা কাজী সোহরাব হোসেন। ‘চলছি তো অবিরাম মানুষের মিছিলে, লড়ছি তো মুক্তির শপথে’ শ্লোগান নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন উদ্বোধক কাজী সোহরাব হোসেন। এসময় সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি অধ্যাপক সফিউদ্দিন আহমদ।

উদ্বোধন ঘোষণার পর সংগঠন সঙ্গীত ‘আরশির সামনে একা একা দাঁড়িয়ে’ পরিবেশন করেন উদীচীর শিল্পীরা। এরপর শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তনে শুরু হয় দ্বিতীয় পর্বের অনুষ্ঠান।

এ পর্বের শুরুতেই প্রদর্শিত হয় সদ্যপ্রয়াত ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম বিপ্লবী ও উদীচীর উপদেষ্টা জসিম উদ্দিন মণ্ডলের জীবনীর উপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘ফায়ারম্যান’। প্রমাণ্যচিত্রটির গবেষণা ও নির্দেশনা দিয়েছেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের চলচ্চিত্র ও চারুকলা বিষয়ক সম্পাদক প্রদীপ ঘোষ।

এরপর উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি সফিউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে শুরু হয় আলোচনা সভা। এ পর্বের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন।

আলোচক হিসেবে অংশ নেন কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, উদীচীর সাবেক সভাপতি কামাল লোহানী, শিল্পী আনোয়ার হোসেন, উদীচীর প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ও সাবেক সভাপতি গোলাম মোহাম্মদ ইদু, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের সভাপতি মাহফুজা খানম, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ। এ পর্বটি সঞ্চালনা করেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে।

অনুষ্ঠানের তৃতীয় পর্বে ছিল বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক সঙ্গীতা ইমামের সঞ্চালনায় এ পর্বের শুরুতে দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের শিল্পীরা। এরপর একক সংগীত নিয়ে মঞ্চে আসেন শিল্পী সোহানা আহমেদ।  দলীয় পরিবেশনায় ছিল বহ্নিশিখা এবং ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠীর শিল্পীরা। ছিল গণসঙ্গীত শিল্পী ফকির শাহাবুদ্দিনের একক পরিবেশনা। ‘হেই সামালো ধান হো, কাস্তেটা দাও শান হো’ গানটির সঙ্গে দলীয় নৃত্য পরিবেশন করেন উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদের নৃত্যশিল্পীরা। দলীয় আবৃত্তি পরিবেশন করেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের বাচিক শিল্পীরা।

পরে একক পরিবেশনা নিয়ে মঞ্চে উপস্থিত হন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের গণসঙ্গীত শিল্পী অসীম গিরি। ঢাকা ছাড়াও দেশে- বিদেশে উদীচীর সাড়ে তিনশরও বেশি শাখায় ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও সুবর্ণজয়ন্তীতে পদার্পণ উপলক্ষে আয়োজন করা হয় শোভাযাত্রা, পুনর্মিলনী, আলোচনা, সঙ্গীত, নৃত্য, আবৃত্তি, নাটকসহ বৈচিত্র্যময় পরিবেশনা।