উত্তরের মানুষের পাশে এ ফ্রি স্কুল

উত্তরের মানুষের পাশে এ ফ্রি স্কুল

SHARE
AFS besides Flood affted people

সম্প্রতি দেশের উত্তরাঞ্চলে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বন্যায় গৃহহীন হয়ে পড়ে হাজার হাজার মানুষ। সাথে সাথে দেখা দেয় খাদ্য, পানীয়জল সহ নিত্য-প্রয়োজনীয় পণ্যের তীব্র অনটন। বন্যার কবলে পড়ে সারাদেশের সাথে মানুষগুলোর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে প্রায়। মানবতা সেখানে বিপন্ন। খাবার নেই, পানি নেই, পয়ঃনিষ্কাশনের সুবিধা নেই, জীবনের নিরাপত্তা নেই, মাথার উপরে ছাদ নেই, আগুন জ্বালানোর জন্য শুকনো জায়গা নেই! খোলা আকাশের নিচে মানুষগুলোর মানবেতর জীবন যাপন! এমনই এক পরিস্থিতিতে বন্যা প্লাবিত মানুষের মুখে এক চিলতে হাসি ফোটানোর প্রয়াসে তাদের পাশে এসে দাড়িয়েছে এ ফ্রি স্কুল। এবারে উত্তরের মানুষের পাশে এ ফ্রি স্কুল

গত ২৪ আগষ্ট(বৃহঃস্পতিবার) এ ফ্রি স্কুলের ১২ জনের একটি দল বন্যার্তদের জন্য ত্রাণ-সামগ্রী নিয়ে পৌঁছায় দিনাজপুরে। এরপর গতকাল শুক্রবার সারাদিনব্যাপী সেখানে বন্যা কবলিতদের মধ্যে ত্রাণ-সামগ্রীগুলো বন্টন করা হয়। ত্রাণ-সামগ্রীগুলো পেয়ে ভীষণ খুশী দুর্যোগ কবলিত এই মানুষগুলো। তাদের বন্টিত জিনিসগুলোর মধ্যে ছিল- চাল, ডাল, বিস্কিট, খাবার স্যালাইন, ওষুধসহ আরো বেশ কিছু নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস। তারা সর্বমোট ৬০০ টির ও বেশি পরিবারের মধ্যে ত্রাণ-সামগ্রী বিতরণ করে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এ ফ্রি স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও আহবায়ক মোঃ রেজওয়ান আহমেদ রোজেল বলেন, “আমরা আসলে ভীষণ খুশী এমন একটা পরিস্থিতিতে এসব অসহায় দুঃখী মানুষের পাশে দাড়াতে পেরে। আমি এ ফ্রি স্কুলের প্রত্যেকটি সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও সার্বিক সহযোগিতার জন্য।”

তিনি আরো বলেন-” ঢাকা থেকে দিনাজপুরে ত্রাণ-সামগ্রীগুলো নিয়ে আসা এবং সেগুলো সঠিকভাবে বন্টন করা আমাদের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। আল্লাহর কাছে অশেষ শুকরিয়া যে আমরা সঠিকভাবে কাজটি করতে পেরেছি। এই গরীব-দুঃখী মানুষদের মুখে একটু হলেও হাসি ফোটাতে পেরেছি এটাই আমাদের অনেক বড় প্রাপ্তি বলে আমি মনে করি।

এদিকে এ ফ্রি স্কুলের মিডিয়া উইং কো-অরডিনেটর জনাব অলিউর রহমান খান রাজীব বলেন, ১৯৮৮ সালে হয়তো Team AFS এর অনেকের জন্ম হয়নি। তবে ওরা জানে তখনকার ভয়াবহ বন্যার কথা। ২৯ বছর পর আবার সেরকম একটি বন্যার মুখোমুখি আমাদের সবার প্রিয় বাংলাদেশ। বিশেষভাবে উত্তরবঙ্গ এবারের বন্যায় আক্রান্ত বেশি। সরকারের পাশাপাশি বানভাসি মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছে অনেকেই। এসব অসহায় মানুষের পাশে থাকার প্রয়াস থেকে আমরা আমাদের Facebook Group Chat এ কথা বলা শুরু করি মাত্র ৮/১০ দিন আগে। অনেক বেশি মাত্রায় আগ্রহ দেখতে পাই সবার মাঝে। সবাই নিজেদের মতো করে বন্যার্তদের সাহায্যে অর্থ উত্তোলনে নেমে পড়ি। শুরু থেকেই প্রচন্ড আগ্রহ নিয়ে কিছু মুখ এগিয়ে আসে। এরপর এগিয়ে আসেন আমাদের স্কুলের মাননীয় উপদেষ্টা আবিদ সরওয়ার স্যার। স্যার নিজেই বেশ বড় অংকের টাকা উঠান। এছাড়া রাফাত রাজিব ভাইয়ের একজন আত্নীয় সুদুর কানাডা থেকে আমাদের এই উদ্যোগে শামিল হন অর্থ সাহায্য দিয়ে। আর রাফাত ভাইয়ের প্রতিষ্ঠান Ziska Pharma দেন বেশ কিছু জরুরি ওষুধ। এরপর মিজান ভাই আর আঞ্জুমান এর মাধ্যমে জনি ভাই দেন ভালো পরিমান টাকা। আর আমাদের A Free School এর প্রতিষ্ঠাতা রোজেল এর কথা আর কি বলবো! তার উদ্যোগে আসে আরও অনেক পরিমান সাহায্য। সব মিলিয়ে দেড় লাখ টাকা ছাড়িয়ে যায়। তবে আরেকজনের কথা অবশ্যই বলতে হবে তিনি হচ্ছেন আমাদের নিয়মিত সদস্য রাফির আম্মা। ওনার এলাকা হওয়ার সুবাদে তিনি নিজে থেকে আমাদের টিমকে অনেক সাহায্য করেন। তবে আমার দৃষ্টিতে সবচেয়ে বড় ভুমিকা ছিলো আমাদের তরুন সদস্যদের। সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ যারা আমাদের পাশে ছিলেন। এভাবেই একটি সপ্নের বাস্তবরুপ দেখতে পেলাম আমরা। আজকের (২৫.০৮.১৭) দিনটি আমাদের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমাদের এ সপ্ন যাত্রা কেবল শুরু। এ যাত্রা চলতেই থাকবে…..

এ ফ্রি স্কুলের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে সদস্যরা জানান, এ ফ্রি স্কুল সব সময় চেষ্টা করে সামাজিক উন্নয়ন ও মানবতার কল্যাণে আত্মনিয়োগ করতে। আর সে প্রচেষ্টার অংশস্বরূপ এর আগেও “Rain is Hope” প্রজেক্টে আমরা এপর্যন্ত ৬টি সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানির ট্যাংক দিয়েছি।

আপনারা হইতোবা আগেই জেনেছেন মংলার মিঠাখালির মানুষ এই সময়টা বৃষ্টির জন্য কতটা অধীর আগ্রহ নিয়ে বসে থাকে কবে বৃষ্টি নামবে আর সেটি সংগ্রহ করবে। এই পানি দিয়েই তারা তাদের সারা বছরের খাবার পানির চাহিদা মিটিয়ে থাকেন।

উল্লেখ্য, আজ থেকে প্রায় পাঁচ বছর পূর্বে যাত্রা শুরু হয় এ ফ্রি স্কুলের। কিছু গরীব অসহায় রাস্তার অবহেলিত ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার উদ্দেশ্যে এগিয়ে আসে কিছু তরূণ-তরূণী। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে আজ এ ফ্রি স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ৫০ ছাড়িয়ে। মিরপুরের শিয়ালবাড়িতে রয়েছে তাদের নিজস্ব ক্যাম্পাস। রয়েছেন ২ জন শিক্ষিকাও। আজ স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা স্বপ্ন দেখে বড় হয়ে তারা কেউবা হবে ডাক্তার, কেউবা আবার ইঞ্জিনিয়ার। আর তাই তো এ ফ্রি স্কুলের স্লোগান – চলো স্বপ্ন দেখি, স্বপ্ন দেখাই। 

LEAVE A REPLY