ঈদে চুলের সাজ

ঈদে চুলের সাজ

SHARE
Eid-Hair style

ঈদ বলে কথা। আর তাই চুলের সাজটাও হওয়া চাই উৎসবের সঙ্গে মানানসই। কেননা যেকোন উৎসবেই পুরো সাজকে উপস্থাপন করতে হেয়ার স্টাইলের ভূমিকা অনন্য। আজ আমরা জানবো ঈদে চুলের সাজ সম্পর্কে-

মেয়েরা সাজতে পছন্দ করেন এটা সত্যি। আর উৎসব কিংবা পার্টি হলে তো কথাই নেই। তারা নিজেদের করে তুলতে চান আরও আকর্ষণীয়। এর জন্য চলে নানা আয়োজন। তবে সাজগোজের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঝামেলার বিষয়টি হল চুল বাঁধা। মুখের সাজের পর চুল বাঁধতে গিয়ে অনেকেই পড়েন বিপদে। আবার যে পোশাকটি পরছেন তার সঙ্গে কোনো হেয়ার স্টাইল যায় সেটিও একটি বিষয়। সালোয়ার-কামিজে এক রকম সাজ তো শাড়িতে আরেক রকমের সাজ।

ঈদের দিন কেমন হেয়ার স্টাইল হলে ভালো?

‘ঈদের দিন সকালটায় আমরা যখন বাসায় থাকি, তখন স্টাইলটা নরমালি রাখতে পারি। এ সময় সাধারণত চুলটাকে একটু ব্লো ড্রাই করে রাখতে পারি। ঠিক নিজের মতো করে রাখা সম্ভব। তবে যাদের স্ট্রেট পছন্দ তারা সেভাবে রাখতে পারে। যারা একটু ওয়েভি পছন্দ করে তারা ওয়েভি করে রাখতে পারে। যারা কার্ল পছন্দ তারা কার্ল করে রাখতে পারে। তো ব্লো ড্রাই করলে চুলটা দেখতেও ভালো লাগে আর আলাদা একটা আসে।’

এছাড়া ‘ঈদের স্পেশাল স্টাইলটা সাধারণত আমরা বিকালে যখন বাইরে যাই সে সময় করতে পারি। এ ক্ষেত্রে চুল কার্ল করা একটা স্মার্ট লুক দিতে পারে। চুল পেঁচিয়ে বা কার্লার দিয়ে মুড়িয়ে কার্ল করা যায়। আবার কেউ যদি কনফিউসড থাকে যে কী করবে। সে ক্ষেত্রে পুরো চুল কার্ল করে নিজের মতো একটা স্টাইল করে নিতে পারে। বর্তমানে পুরো বিশেষ বেণির একটা প্রাধান্য আছে। সে ক্ষেত্রে কেউ যদি মনে করে আমি গাউন টাইপের একটা ড্রেস পরব তো সে জন্য পুরো চুল কার্ল করে একটা বেণির আউটলুক আনতে পারে। আর শাড়ি পরলে আমার যেটা পছন্দ যে চুল ছেড়ে রাখা বা হাত খোঁপা করা। কারো হাত খোঁপা পছন্দ না হলে পুরো চুল পেছনে টেনে একটা খোঁপা করতে পারে। অথবা চ্যাপটা শেপে একটা খোঁপা করতে পারে। এতে একটা মডার্ন লুক আসবে।’

কমন কয়েকটি হেয়ার স্টাইল যা আপনি অনায়াসে করতে পারেন।

খোলা চুলে কার্লি

সম্পূর্ণ চুল ব্লো ড্রাই করার পর সাইড সিঁথি করে নিন। তারপর সামনে বেণির জন্য এক গোছা চুল রেখে বাকি চুল ব্যাক ব্রাশ করে আটকে নিন। এবার সামনের চুলের দুই পাশে ফ্রেঞ্চ বেণি করে কানের পেছনে নিয়ে ক্লিপ লাগিয়ে দিন। এবার পেছনের চুলগুলোকে কার্ল মেশিন দিয়ে কার্ল করে নিন। যে কোনো ওয়েস্টার্ন পোশাকে চুলের এই লুক বেশ মানাবে। আবার গাউন কিংবা ফ্লোর টাচ ড্রেসের সঙ্গেও বেশ মানাবে।

কার্ল খোঁপা

সম্পূর্ণ চুল ভালোভাবে ব্লো ড্রাই করে নিন। তারপর পেছনের চুলগুলো কার্ল মেশিন দিয়ে কার্ল করুন। চুলের নিচের দিক থেকে পেঁচিয়ে কার্ল করুন। কার্ল করার আগে চুলে স্প্রে করে নিন। দীর্ঘ সময় চুল কার্লি থাকবে। এবার কানের দুই পাশের চুল পেছনে নিয়ে ক্লিপ আটকে নিন। তারপর পেঁচিয়ে হাত খোঁপা করে নিন। শাড়ির সঙ্গে এ ধরনের খোঁপা ভালো মানাবে।

খেজুর বেণি

প্রথমে সম্পূর্ণ চুল হেয়ার ড্রায়ার ও সেটিং ব্রাশ দিয়ে ব্লো ড্রাই করে নিন। তারপর সাইড সিঁথি করে সামনে বেণি করার জন্য চুল রেখে পেছনের চুলগুলোকে ব্যাক করে ক্লিপ দিয়ে আটকে রাখুন। যাতে সামনের দিকে চুল চলে না আসে। সামনের দুই পাশের চুলে ফ্রেঞ্চ বেণি করে কানের দুই পাশ থেকে পিছনে নিয়ে ক্লিপ দিয়ে আটকান। এবার পিছনে আটকানো চুলে ক্লিপ খুলে ফেলুন। মাথার তালুর ওপরের চুলগুলো হেয়ার ব্রাশ দিয়ে একটু পাফ করে ফুলিয়ে স্প্রে করে নিন। তারপর সব চুল ব্রাশ করে খেজুর বেণি করে নিন। কুর্তা, ফতুয়া বা টপসের সঙ্গেও মোটেই বেমানান লাগবে না।

টিপস

ঈদের অন্তত একদিন আগে চুলের পরিচর্যা করুন।

অয়েল ম্যাসাজ বা তেল লাগিয়ে পরে শ্যাম্পু করতে পারেন।

চুলের ধরন বুঝে হেয়ার প্যাক ব্যবহার করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে চুলের স্টাইল করতে সুবিধা হবে।

আবার হেয়ার স্টাইল করতে চুল ব্লো ড্রাই করলে পরে চুল শুষ্ক হয়ে যায় তাই ভালো কোনো হেয়ার প্যাক ব্যবহার করুন।

ঈদের এক সপ্তাহ আগে থেকে চুলের পরিচর্যা করতে শুরু করলে সবচেয়ে ভালো ফল পাবেন। ।