ঈদের সারাবেলা

ঈদের সারাবেলা

SHARE
Eider sajj

ঈদের দিন সকাল থেকে শুরু হওয়া ব্যস্ততার মাঝে নিজেকে সাজিয়ে রাখা একটু কঠিন হয়ে পড়ে নারীর পক্ষে। আজ ঈদের বিশেষ আয়োজনে আপনাদের জন্য রয়েছে ঈদের সারাবেলা সাজসজ্জ্বা-

সকালবেলা হালকা সাজের মাঝে নিজেকে ফুটিয়ে তুলতে, আবহাওয়ার সঙ্গে মানানসই পোশাক পরিধান করতে পারেন। সেক্ষেত্রে সুতির সালোয়ার কামিজে অনেকেই স্বাচ্ছন্দ্য পেতে পারেন। চোখে কাজল এবং ঠোঁটে ন্যাচারাল কালারের লিপস্টিক লাগালে চেহারায় সকালের শুভ্রতা ফুটে উঠবে।

যেহেতু দিনের প্রথম মেকাপ, তাই শুরুতেই ত্বক পরিষ্কার করে নিতে হবে। এর পর টোনার ও ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে স্কিন টোনের সঙ্গে মিলিয়ে ফাউন্ডেশন দিয়ে পাউডার ভালভাবে লাগিয়ে নিন। চোখ যেভাবেই সাজান না কেন সূক্ষ্ম ফিনিশিং হওয়া জরুরী, পছন্দ অনুযায়ী ব্যবহার করুন লাইনার। বিভিন্ন রঙের আই পেন্সিল ব্যবহার করতে পারেন তাতে নিজেকে অন্যদের চেয়ে আলাদা মনে হবে।

দুপুরে চোহারায় ব্লাশন টোনটা একটু ব্রাইট করা যেতে পারে। লিপস্টিক একটু কালারফুল হতে পারে। ব্রাইট হলেও যেন তা আবার ডার্ক না হয়ে যায় সেদিকে খেয়াল রাখা দরকার। চোখে একটু ভারি কাজল বা আইলাইনার ব্যবহার করতে পারে। ভারি করে মাশকারা লাগালেও ভাল লাগবে।

বিকেলে শাড়ি পরতে পারেন। সঙ্গে ম্যাচিং গয়না পরলে খুব সিম্পল একটা লুক আসবে। চাইলে চুলে সুন্দর খোঁপা করতে পারেন। ঈদের আগের দিন পার্লারে গিয়ে চুলের গ্লো সেটিংটা ঠিক করে নিতে পারেন। রকমারি কাঁটা-ক্লিপ কিংবা সৌন্দর্য বর্ধনকারী ফুল আপনাকে আকর্ষণীয় করে তুলবে।

বাইরে গেলে শাড়ি পরুন। বাঙালী নারীর শাড়িতেই পূর্ণ সৌন্দর্য প্রকাশ পায়। মুখ, গলায় ফাউন্ডেশন কমপ্যাক্ট পাউডার দিন। সাজ বেশি সময় স্থায়ী করতে স্পঞ্জ পানিতে ভিজেয়ে মুখে চেপে মেকাপ বসিয়ে নিন। চোখে মাশকারা, আইলাইনার এবং গাঢ় রঙের স্যাডো ব্যবহার করুন। ঠোঁটে লিপস্টিক দিন। হাতভর্তি চুড়ি পরুন। গলায় ও কানে গয়না পরুন। কুমকুম অথবা গ্লিটার দিয়ে বড় করে টিপ আঁকুন কপালে। এবার ব্লাশন দিয়ে সাজ পূর্ণ করুন। এরপর পছন্দের পারফিউম মেখে, ব্যাগ নিয়ে প্রিয়জনের সঙ্গে বেরিয়ে পরুন।

এ ছাড়াও পরতে পারেন গর্জিয়াস পোশাক-ট্রেন্ডি টপস কিংবা গাউনের সঙ্গে হালের পালাজো। এ সময় চেহারায় শ্যাডো কালারের টোন বা ডার্ক টোনে ব্লাশন করা গেলে ভাল লাগবে। ইচ্ছে মতো ভিন্নতা আনুন নিজের রূপে তবে নিজের স্বস্তি জলাঞ্জলি দিয়ে নয়।

সাধারণত ঈদের রাতেই ফ্যামিলি কিংবা ফ্রেন্ডসদের সঙ্গে গেট টুগেদার করা হয়। সেক্ষেত্রে রাতে লাইট মেকাপ নেয়া যেতে পারে, কালারফুল ড্রেস পরার চেষ্টা করুন। লিপস্টিকের রং হাল্কা না গাড়ো কিংবা ম্যাট, ক্রিম কিংবা গ্লসি সেটা ভেবে চিন্তে পছন্দ করুন, ঈদের সাজে আপনার ঠোঁটের মিষ্টি হাসি, আপনাকে আরও বেশি সুন্দর করে তুলবে। চোখের পাপড়ির ওপরে ও নিচে ঘন করে মশকরা লাগিয়ে নিন। একটু ড্রামাটিক লুক পেতে গোল্ডেন আইশ্যাডো ব্যবহার করতে পারেন। গর্জিয়াস এক্সেসরিস যেমন ব্যাগ কিংবা ব্রেসলেট পরলে তা আপনাকে আরও বেশি স্টাইলিশ করবে। পোশাকের রং আর ধাঁচের সঙ্গে মিল রেখে জুতা নির্বাচন করুন, এক্ষেত্রে আপনার পায়ের আরামকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিন।

এবারে আসুন ছেলেদের সাজে। যাবতীয় কাজ করার পর ঈদের দিন ছেলেরা সাজার বিশেষ সময় পান না। দিনের শুরুতে ঘুম থেকে উঠে গোসল করলে সারাদিন ফ্রেশ থাকা যায়। এ ছাড়া তরুণরা সুতির পাঞ্জাবি-পায়জামা এবং স্লিপার পরে ঈদের নামাজ আদায় করে নিতে পারেন। এক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে, এবারের ঈদ বর্ষায়, ঈদের দিন রয়েছে বৃষ্টির সম্ভাবনা সুতরাং এক কালারের পাঞ্জাবি কিংবা সাদা পাঞ্জাবি না পরা ভাল হবে।

এই ঈদে ছেলেদের পাঞ্জাবী ছাড়া চলবে না। বাহারী পাঞ্জাবীর সঙ্গে পায়জামা ছেলেদের সবসময় ভালো মানিয়ে যায়। তবে খেয়াল রাখতে হবে সাদা পাঞ্জাবীতে দাগ লাগার সম্ভাবনা বেশি, তাই আপনার পাঞ্জাবী একটু রঙিন হলে এই চান্সটা কম থাকবে। ঈদের দিন পাঞ্জাবীতে দাম লাগলে আর তা দৃশ্যমান হলে আপনার নিজের কাছেই অস্বস্তি লাগবে।

সন্ধ্যের জন্য হাল্কা পোশাক যেমন টিশার্ট-প্যান্টই তার পছন্দ। বিকেলে ক্যাজুয়াল শার্ট এবং কালারফুল গেবার্ডিং প্যান্ট পরতে পারেন, এর সঙ্গে দুই ফিতার চটি কিংবা স্নিকার্স পরতে পারেন। লুকে বৈচিত্র্য আনতে চুলে জেল দিয়ে ইচ্ছেমতো স্টাইল দিতে পারেন।