আজ রুনা লায়লার ৬৫তম জন্মদিন

আজ রুনা লায়লার ৬৫তম জন্মদিন

SHARE
Today, Runa Lailar's 65th birthday

আজ উপমহাদেশের প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী রুনা লায়লার ৬৫তম জন্মদিন। বাংলাদেশের অহংকার গানের পাখি, কোকিল কন্ঠি রুনা লায়লা ১৯৫২ সালের ১৭ নভেম্বর সিলেট জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।

সৈয়দ মোহাম্মদ এমদাদ আলী ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা এবং মা আনিতা সেন ওরফে আমেনা লায়লা ছিলেন সঙ্গীত শিল্পী। তার মামা সুবীর সেন ভারতের বিখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী।

৫ দশকের বেশি সময় ধরে ১৮টি ভাষায় ১০ হাজারেরও বেশি গান করেছেন এই গুণী তারকা শিল্পী। কুড়িয়েছেন কোটি মানুষের ভালোবাসা। রুনা লায়লাই সম্ভবত একমাত্র শিল্পী যিনি বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান এই তিন দেশেই সমান ভাবে জনপ্রিয়।

রুনা লায়লার যখন আড়াই বছর বয়স তার বাবা রাজশাহী থেকে বদলি হয়ে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের মুলতানে যান। সে সূত্রে তার শৈশব কাটে পাকিস্তানের লাহোরে।

চার বছর বয়সেই নাচ শিখতেন রুনা লায়লা, গানের প্রতি তেমন কোন আগ্রহ বা ভালবাসা গড়ে ওঠেনি তখনও। বড় বোন দীনা লায়লাকে গান শেখাতে যে ওস্তাদ আসতেন, তাঁর সামনেই খেলার ফাঁকে ফাঁকে মাঝে মাঝে বসে যেতেন বোনের সাথে। সেই ওস্তাদজিই একদিন তাঁর মাকে জানালেন তাঁকে গান শেখানোর কথা। প্রখর স্মৃতিশক্তির কারণে ঐটুকু বয়সেই যে কোন গান তুলে মুখস্থ করে ফেলতেন অনায়াসেই। আর সঙ্গে ছিল তাল লয় আর সুরের জ্ঞান।

এইসব গুণেই শিশু রুনা লায়লার মাঝে আগামীর শিল্পীর সম্ভাবনা হয়ত দেখেছিলেন সেই সংগীত শিক্ষক। তবে, মেধাবী হলেও শৈশবে প্রচণ্ড ফাঁকিবাজ ছিলেন বলে দাবি বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করা এই কন্ঠসম্রাজ্ঞীর।

গান শেখা শুরু করার পর কখন যে এই ব্যাপারে এতটা সিরিয়াস হয়ে উঠেছিলেন তা নিজেও টের পান নি। খুব কম বয়সেই প্লেব্যাকের মাধ্যমে অল্পদিনেই খ্যাতি অর্জন করতে শুরু করেন রুনা লায়লা। বাবা সৈয়দ মোহাম্মদ এমদাদ আলী ও মা আমেনা লায়লার দ্বিতীয় সন্তান রুনা লায়লা ক্রমেই হয়ে ওঠেন উপমহাদেশীয় সংগীত জগতের এক বিস্ময়কর নাম।

এই খ্যাতি দারুণভাবে উপভোগও করেন তিনি। ভক্তদের ভালবাসাতেই আজ তিনি বিশ্বজুড়ে পরিচিত। শ্রোতাদের জন্যই তিনি হয়ে উঠেছেন কিংবদন্তী রুনা লায়লা। সাতবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা নারী কণ্ঠশিল্পীর পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। শুধু গানই নয়, চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত ‘শিল্পী’ নামক চলচ্চিত্রে অভিনয়ও করেছিলেন রুনা লায়লা।

১৯৭৪ সালের শুরুতে প্রয়াত সত্য সাহার সুরে ‘জীবন সাথী’ ছবিতে গান গাওয়ার মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের ছবিতে প্রথম প্লেব্যাক করেন তিনি। গানের কথা ছিল ‘ও জীবন সাথী তুমি আমার’। এ গানে তার সঙ্গে কণ্ঠ দেন খন্দকার ফারুক আহমেদ। তবে পাকিস্তানের ‘যুগ্নু’ ছবিতে ছোটবেলায় রুনা লায়লা প্রথম প্লেব্যাক করেন। এরপর পাকিস্তান ও বাংলাদেশের অসংখ্য ছবিতে তিনি প্লেব্যাক করেছেন।

এসবের মধ্যে রয়েছে দেশ থেকে চারবার জাতীয় চলিচ্চত্র পুরস্কার, স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার। এছাড়া ভারত থেকে পেয়েছেন সায়গল পুরস্কার। পাকিস্তান থেকে অর্জন করেছেন নিগার, ক্রিটিক্স, গ্র্যাজুয়েটস পুরস্কারসহ জাতীয় সঙ্গীত পরিষদ স্বর্ণপদক।

বসার ঘরের এক কোণার পুরোটা জুড়ে সাজানো তাঁর অর্জিত বিভিন্ন পুরস্কার। সেগুলো মুগ্ধ চোখে দেখতে দেখতেই ছোটবেলার জন্মদিনের কথা চলে এলো। জিজ্ঞাসা করতেই স্মৃতিকাতর হয়ে জানালেন, শৈশবে তাঁর কাছে জন্মদিন মানেই ছিল মায়ের হাতে সেলাই করা নতুন জামা। সেই জামা পড়েই বেশ ঘটা করে বন্ধুবান্ধবকে সঙ্গে নিয়ে জন্মদিন পালন করতেন তিনি।

এবারের জন্মদিন উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন চ্যানেল আয়োজন করেছে বিশেষ অনুষ্ঠান। রুনা লায়লা জানিয়েছেন, জন্মদিন উপলক্ষে বাইরের কোনো অনুষ্ঠান কিংবা আনুষ্ঠানিকতায় তিনি অংশ নিচ্ছেন না। তবে নিজ বাসায় পরিবার ও কাছের বন্ধুদের নিয়ে জন্মোৎসবের আয়োজন হবে সন্ধ্যায়।