অকারনে খাদ্যাভাস

অকারনে খাদ্যাভাস

SHARE
over eating habits

খিদে না পেলেও আমরা অনেক সময় খেয়ে থাকি। খাবারের প্রতি বাড়তি আকর্ষণ ছাড়াও রক্তে চিনির পরিমাণ কমে যাওয়া কিংবা পানিশূন্যতার মতো আরও অনেক কারণে আমাদের খাওয়ার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। তবে আসুন জেনে নেই কারণগুলো:

১. রক্তে চিনির পরিমাণ কমে গেলে
রক্তে চিনির মাত্রা কমে যাওয়াকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলে হাইপোগ্লাইসেমিয়া। আর এর লক্ষণগুলো হল – মাথা ঘুরানো, শরীরে ক্লান্তি, শরীর ঘামা এবং ক্ষুধা লাগা এবং বমি ভাব হওয়া। আর এই ক্ষুধা নিবারণের জন্যই হয়ে যায় একটু মিষ্টি বা চকলেট খাওয়া।

যদিও এটা ঠিক যে সত্যিকারের হাইপোগ্লাইসেমিয়া মূলত ডায়বেটিস রোগীদেরই হয়। তবে ডায়াবেটিস নেই এমন ব্যক্তিরও রক্তে চিনির পরিমাণ ওঠা-নামা করতে পারে। যদি আপনি কোনো কারণে এক বেলার খাবার না খান বা উপোস করেন, অথবা আপনার ওজন যদি এতটা বেশি হয় যার ফলে আপনার শরীরে ইনসুলিন ঠিক মত কাজ করতে পারে না তাহলেও এমনটা হতে পারে। রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ ঠিক রাখতে শুধু তিনবেলা বড় খাবার না খেয়ে তিন ঘন্টা পর পর অল্প অল্প করে খাবার খান।

২. দুশ্চিন্তা
প্রতিদিন ঘরে-বাইরের কাজের তালিকা এত বেড়ে যায় যে মাঝে মাঝে মনে হয় ২৪ ঘণ্টা বুঝি কম হয়ে যাচ্ছে। তালিকা যত দীর্ঘ হয়, দুশ্চিন্তার পরিমাণও ততই বাড়ে। আর আপনার শরীরের মেদ বাড়ানোর জন্য একটু হলেও দায়ী এই দুশ্চিন্তা। দুশ্চিন্তায় থাকলে আপনার শরীরে নিঃসরিত হয় স্ট্রেস হরমোন কটরিসল, যা আপনাকে খেতে আগ্রহী করে।এমকি ক্ষুধাগ্রস্থ না হলেও। দুশ্চিন্তা যতক্ষণ না কমে, করটিসল নির্গমন বন্ধ হয় না। ফলে আমাদের মুখে পুরতে ইচ্ছা হয় এমন সব খাবার, যা চর্বি এবং চিনিতে ভরপুর। যার ফলাফল—শরীরের বাড়তি মেদ।

মেদহীন শরীরের জন্য দুশ্চিন্তার সময় চকলেট কিংবা চিপসের দিকে হাত না বাড়িয়ে ধ্যানে বসে যান। ৫ মিনিটের ধ্যান কিংবা খোলামেলা কোনো জায়গায় একটু হেঁটে আসলেই মনটা শান্ত হইয়ে যাবে আর কর্টিসলের মাত্রাও কমে যাবে।

৩. পেট ভরা থাকলেও ক্ষুধা
আমাদের শরীরে লেপটিন নামক এক ধরনের হরমোন রয়েছে, যখন এটি ঠিকমতো কাজ করে না, তখন পেট ভরা থাকলেও আমাদের ক্ষুধা লাগে। লেপটিন মূলত আমাদের খাবারের ইচ্ছাকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। খাওয়ার পর যখন লেপটিনের পরিমাণ বেড়ে যায়, তখন মস্তিষ্ক সংকেত দেয় পেট ভরে গেছে, এখন খাওয়া বন্ধ করতে হবে।

যাদের ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি, তাদের শরীরে লেপটিন ঠিকমতো কাজ করে না। আর এ কারণে তাদের সব সময়ই ক্ষুধা লাগে। এটি শরীরের জন্য কোনোভাবেই ভালো লক্ষণ নয়, যদি আপনার শরীরে লেপটিনের তারতম্য দেখা দেয় তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

৪. আবেগতাড়িত খাওয়া
যখন আপনার মন খারাপ থাকে বা কিছুই ভাল লাগছে না,তখন পছন্দের কোনো খাবারের কথা ভাবলেই মাথায় জ্বলে উঠে  ১০০ ওয়াটের বাতি আর এভাবেই শুরু হয় আবেগতাড়িত খাওয়া। আবেগতাড়িত হয়ে খেতে যারা অভ্যস্ত, তারা মাঝে মাঝেই হতাশা কিংবা দুঃখ ভুলে থাকতে খাবারের আশ্রয় নেন। বিশেষ করে ছোটবেলার পছন্দের কোনো খাবারের প্রতি আগ্রহ বেশি থাকে তাদের। এভাবে খাওয়া আমাদের মস্তিষ্কে সেরোটোনিন নামক এক পদার্থ তৈরি করে, যা কি না  কিছু সময়ের জন্য হলেও আমাদের ভালো লাগার অনুভূতি দেয়।

আবেগতাড়িত হয়ে খাওয়া ঐ সময়ের জন্য ভালো লাগলেও তা শরীরের ক্ষতি করে নানাভাবে। এর চেয়ে বরং মন খারাপ হলে নিজেকে অন্য কিছু দিয়ে ব্যস্ত রাখুন, যেমন বাড়িতে পোষা প্রাণী থাকলে তার সঙ্গে সময় কাটান, নখে নেইল পলিশ লাগান কিংবা একটু গেইমও খেলতে পারেন।

৫. পানিশূন্যতা
অনেক সময় দেহে পানিশূন্যতা তৈরি হলে ঘুম ঘুম ভাব হয়। আবার ক্ষুধা লাগলেও শরীরে এমনই অনুভূতি হয়, তাই মস্তিষ্ক ভেবে নেয় আপনার ক্ষুধা লেগেছে।

প্রচুর পরিমাণে পানি পান করলে যে শরীর ভালো থাকবে, এটা নতুন করে বলার কিছু নেই। কোন হালকা খাবার খাওয়ার আগে যদি আপনি এক গ্লাস পানি খেয়ে নেন, তাহলে দেখবেন পেট অনেকটাই ভরা লাগবে আর তখন বাড়তি খাবার খাওয়ার প্রয়োজন পড়বে না।